নিউইয়র্ক ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান থেকে ইরাকে নেওয়া হয়েছে খামেনির কফিন

  • আপডেটের সময় : ১০:৪৬:২০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে। বিমানবন্দরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা কফিন গ্রহণ করেন। বুধবার (৮ জুলাই) সেখানে বৃহৎ পরিসরে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর খামেনির মরদেহবাহী কফিন গ্রহণ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। পরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর জানাজা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোক মিছিলের প্রস্তুতি শুরু হয়।

শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় নগরী। কারণ, এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা ইমাম আলী (রা.) সমাহিত আছেন। এ কারণে খামেনির মরদেহ নাজাফে নেওয়াকে ধর্মীয় ও প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হন। এরপর ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও একাধিক দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরাকের রাজনৈতিক নেতা, শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এরপর খামেনির মরদেহবাহী কফিন শহরজুড়ে জনশোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া হবে। বুধবার সেখানে বড় পরিসরের শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় খামেনির জানাজা ও শোক র‌্যালি শুরু হয়। প্রায় চার দশক ধরে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার মৃত্যু উপলক্ষে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোকে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পরাশক্তিগুলো এখন নিজেদের সীমা বুঝতে শুরু করেছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

২৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরান থেকে ইরাকে নেওয়া হয়েছে খামেনির কফিন

আপডেটের সময় : ১০:৪৬:২০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে। বিমানবন্দরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা কফিন গ্রহণ করেন। বুধবার (৮ জুলাই) সেখানে বৃহৎ পরিসরে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর খামেনির মরদেহবাহী কফিন গ্রহণ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। পরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর জানাজা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোক মিছিলের প্রস্তুতি শুরু হয়।

শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় নগরী। কারণ, এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা ইমাম আলী (রা.) সমাহিত আছেন। এ কারণে খামেনির মরদেহ নাজাফে নেওয়াকে ধর্মীয় ও প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হন। এরপর ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও একাধিক দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরাকের রাজনৈতিক নেতা, শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এরপর খামেনির মরদেহবাহী কফিন শহরজুড়ে জনশোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া হবে। বুধবার সেখানে বড় পরিসরের শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় খামেনির জানাজা ও শোক র‌্যালি শুরু হয়। প্রায় চার দশক ধরে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার মৃত্যু উপলক্ষে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোকে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card