নিউইয়র্ক ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘তুরস্ক-সৌদি আরব-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো’

  • আপডেটের সময় : ০৮:০২:৫৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ২৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি কৌশলগতভাবে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ (আর্টিকেল ৫) ভিত্তিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির সমান বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেন, এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। রোববার (৯ আগস্ট) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই জোটকে আরও বিস্তৃত করতে চান। মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে এতে যোগ দিতে পারে।

এর আগে, শুক্রবার পবিত্র মক্কায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই চুক্তিতে সই করে। আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তিনটি সুন্নি মুসলিম দেশ এই প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তুলেছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। এতে বলা হয়, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, নতুন এই জোট ইরান বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। বরং তিন মিত্র দেশের নিরাপত্তার প্রতি সাধারণভাবে পারস্পরিক সমর্থনের অঙ্গীকার হিসেবে এই জোট কাজ করবে।

তিনি বলেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে মিত্র দেশগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তারা কী মাত্রায়, কী ধরনের এবং কোন পদ্ধতিতে সহায়তা চাইবে, তা নির্ধারণ করবে। তবে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো দেশকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি জোট গঠন করেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধসহ আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় গঠিত এই জোটকে আর-ফোর নামে অভিহিত করা হচ্ছে। তুরস্ক জানিয়েছে, বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

এসময় লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় গঠিত আন্তর্জাতিক জোটে তুরস্কেরও অংশ নেওয়া উচিত। কারণ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা তুরস্কের স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত বলে জানান ফিদান।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘তুরস্ক-সৌদি আরব-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো’

আপডেটের সময় : ০৮:০২:৫৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি কৌশলগতভাবে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ (আর্টিকেল ৫) ভিত্তিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির সমান বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেন, এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। রোববার (৯ আগস্ট) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই জোটকে আরও বিস্তৃত করতে চান। মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে এতে যোগ দিতে পারে।

এর আগে, শুক্রবার পবিত্র মক্কায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই চুক্তিতে সই করে। আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তিনটি সুন্নি মুসলিম দেশ এই প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তুলেছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। এতে বলা হয়, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, নতুন এই জোট ইরান বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। বরং তিন মিত্র দেশের নিরাপত্তার প্রতি সাধারণভাবে পারস্পরিক সমর্থনের অঙ্গীকার হিসেবে এই জোট কাজ করবে।

তিনি বলেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে মিত্র দেশগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তারা কী মাত্রায়, কী ধরনের এবং কোন পদ্ধতিতে সহায়তা চাইবে, তা নির্ধারণ করবে। তবে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো দেশকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি জোট গঠন করেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধসহ আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় গঠিত এই জোটকে আর-ফোর নামে অভিহিত করা হচ্ছে। তুরস্ক জানিয়েছে, বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

এসময় লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় গঠিত আন্তর্জাতিক জোটে তুরস্কেরও অংশ নেওয়া উচিত। কারণ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা তুরস্কের স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত বলে জানান ফিদান।

Share this news as a Photo Card