নিউইয়র্ক ১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫২:০৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ২৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আটটি দাখিল মাদরাসা এবং একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বগুড়ায় ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পাসের বিষয়টি জানা যায়। এমন ফলাফলের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসা; শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা, ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদরাসা ও দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা; শেরপুর উপজেলার কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদরাসা ও মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদরাসা; ধুনট উপজেলার হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম কলেজ ও রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদরাসা এবং সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদরাসা।

এমন ভরাডুবির বিষয়ে জানতে চাইলে গাবতলীর কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার ৫০ বছরের কর্মজীবনে এটি সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করায় কেউ পাস করতে পারেনি। কেন এমন ফল হলো, বুঝতে পারছি না।’

শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা থেকে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় পাঁচজন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের একজনও পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানটির সুপার জুয়েলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান নন-এমপিওভুক্ত। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হয় না এবং পড়াশোনায়ও আগ্রহ কম। এ কারণে ফলাফল খারাপ হয়ে থাকতে পারে।’

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার বলেন, ‘৯টি প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষক সংকট আছে কিনা, কিংবা অন্য কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে কিনা সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। মূল কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বগুড়ায় ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি

আপডেটের সময় : ০৪:৫২:০৪ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

বগুড়ায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আটটি দাখিল মাদরাসা এবং একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বগুড়ায় ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পাসের বিষয়টি জানা যায়। এমন ফলাফলের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসা; শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা, ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদরাসা ও দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা; শেরপুর উপজেলার কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদরাসা ও মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদরাসা; ধুনট উপজেলার হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম কলেজ ও রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদরাসা এবং সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদরাসা।

এমন ভরাডুবির বিষয়ে জানতে চাইলে গাবতলীর কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার ৫০ বছরের কর্মজীবনে এটি সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এক বা দুটি বিষয়ে ফেল করায় কেউ পাস করতে পারেনি। কেন এমন ফল হলো, বুঝতে পারছি না।’

শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা থেকে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় পাঁচজন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের একজনও পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানটির সুপার জুয়েলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান নন-এমপিওভুক্ত। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হয় না এবং পড়াশোনায়ও আগ্রহ কম। এ কারণে ফলাফল খারাপ হয়ে থাকতে পারে।’

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার বলেন, ‘৯টি প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষক সংকট আছে কিনা, কিংবা অন্য কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে কিনা সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। মূল কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Share this news as a Photo Card