নিউইয়র্ক ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল বন্ধ

  • আপডেটের সময় : ০৫:৪০:১২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ২৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

এল নিনোর প্রভাবে দীর্ঘ ও তীব্র শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার কয়েক ডজন স্কুল মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয়েছে। বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমানতানে, যা ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে, পন্টিয়ানাকের মেয়র শহরের ওপর ভেসে আসা ধোঁয়ার কারণে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেন।

ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পন্টিয়ানাকে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক হাজার।

বায়ুর মান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে পাঠ নেবে বলে সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন মেয়র এদি রুস্তি কামতোনো। তবে কতটি স্কুল এ সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছি। বিশেষ করে রাত ও সকালে। কারণ ধোঁয়ার আস্তরণ ইতোমধ্যে পন্টিয়ানাক শহর ঢেকে ফেলেছে।’

জাভা দ্বীপে দমকলকর্মীরা নবম দিনের মতো একটি জাতীয় উদ্যানে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত সোমবার শুরু হওয়া ওই দাবানলে ইতোমধ্যে ৯০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।

শনিবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকা ব্রোমো তেঙ্গের সেমেরু জাতীয় উদ্যানের এই আগুন ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি বড় দাবানলের একটি। দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার দমকলকর্মী এসব আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর ইন্দোনেশিয়ায় অস্বাভাবিকভাবে কঠিন শুষ্ক মৌসুম দেখা দিতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বেশি রয়েছে।

চলতি বছরে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাদ্য মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।

পূর্ব জাভার ব্রোমো উদ্যানে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৯০০ হেক্টর বা ২ হাজার ২০০ একরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এটি ১ হাজার ২০০টির বেশি ফুটবল মাঠের সমান এবং পুরো উদ্যানের প্রায় ২ শতাংশ এলাকা।

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা সাত্রিয়ো নুরসেনো এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে আগুন নেভানো যায় এবং এলাকায় পানি ছিটানো যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আজ সব এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এরপর পানি ছিটিয়ে নিশ্চিত করা হবে, যাতে আগুন আবার না ছড়ায়।’ আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী, বনরক্ষী, পুলিশ ও সেনাসদস্যকে সহায়তা দিচ্ছে তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টার ও ফায়ার ট্রাক।

দুর্যোগ সংস্থা বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রদেশে দাবানল মোকাবিলায় ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তামন্ত্রী জামারি চানিয়াগো সোমবার বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ইন্দোনেশিয়া ৪৩টি হেলিকপ্টার এবং সর্বোচ্চ ১৫টি নির্দিষ্ট ডানার বিমান মোতায়েন করেছে। এ প্রক্রিয়ায় বিমান থেকে সিলভার আয়োডাইড ও লবণের মতো কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এর জন্য আকাশে মেঘ থাকা প্রয়োজন।

এল নিনোর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। এ অবস্থায় বিএমকেজি জানিয়েছে, জুলাই মাসে দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রির চেয়ে বেশি। ১৯৯১ সালের পর জুলাই মাসে এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুজনিত ঘটনা। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া সৃষ্টি করে।

সর্বশেষ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল বৈশ্বিকভাবে রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উষ্ণ দুই বছর ছিল। চলতি বছরে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল বন্ধ

আপডেটের সময় : ০৫:৪০:১২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

এল নিনোর প্রভাবে দীর্ঘ ও তীব্র শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ার কয়েক ডজন স্কুল মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয়েছে। বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমানতানে, যা ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে, পন্টিয়ানাকের মেয়র শহরের ওপর ভেসে আসা ধোঁয়ার কারণে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেন।

ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পন্টিয়ানাকে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক হাজার।

বায়ুর মান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে পাঠ নেবে বলে সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন মেয়র এদি রুস্তি কামতোনো। তবে কতটি স্কুল এ সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছি। বিশেষ করে রাত ও সকালে। কারণ ধোঁয়ার আস্তরণ ইতোমধ্যে পন্টিয়ানাক শহর ঢেকে ফেলেছে।’

জাভা দ্বীপে দমকলকর্মীরা নবম দিনের মতো একটি জাতীয় উদ্যানে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত সোমবার শুরু হওয়া ওই দাবানলে ইতোমধ্যে ৯০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।

শনিবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকা ব্রোমো তেঙ্গের সেমেরু জাতীয় উদ্যানের এই আগুন ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি বড় দাবানলের একটি। দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার দমকলকর্মী এসব আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর ইন্দোনেশিয়ায় অস্বাভাবিকভাবে কঠিন শুষ্ক মৌসুম দেখা দিতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বেশি রয়েছে।

চলতি বছরে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাদ্য মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।

পূর্ব জাভার ব্রোমো উদ্যানে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৯০০ হেক্টর বা ২ হাজার ২০০ একরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এটি ১ হাজার ২০০টির বেশি ফুটবল মাঠের সমান এবং পুরো উদ্যানের প্রায় ২ শতাংশ এলাকা।

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা সাত্রিয়ো নুরসেনো এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে আগুন নেভানো যায় এবং এলাকায় পানি ছিটানো যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আজ সব এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এরপর পানি ছিটিয়ে নিশ্চিত করা হবে, যাতে আগুন আবার না ছড়ায়।’ আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী, বনরক্ষী, পুলিশ ও সেনাসদস্যকে সহায়তা দিচ্ছে তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টার ও ফায়ার ট্রাক।

দুর্যোগ সংস্থা বিএনপিবির তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রদেশে দাবানল মোকাবিলায় ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তামন্ত্রী জামারি চানিয়াগো সোমবার বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ইন্দোনেশিয়া ৪৩টি হেলিকপ্টার এবং সর্বোচ্চ ১৫টি নির্দিষ্ট ডানার বিমান মোতায়েন করেছে। এ প্রক্রিয়ায় বিমান থেকে সিলভার আয়োডাইড ও লবণের মতো কণা ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এর জন্য আকাশে মেঘ থাকা প্রয়োজন।

এল নিনোর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। এ অবস্থায় বিএমকেজি জানিয়েছে, জুলাই মাসে দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রির চেয়ে বেশি। ১৯৯১ সালের পর জুলাই মাসে এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুজনিত ঘটনা। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া সৃষ্টি করে।

সর্বশেষ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল বৈশ্বিকভাবে রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উষ্ণ দুই বছর ছিল। চলতি বছরে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।

Share this news as a Photo Card