আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের সুযোগে পালিয়ে যাওয়া ৮৭ বন্দীর মধ্যে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে জেলার শ্যামনগর উপজেলার পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া বন্দীদের মধ্যে ৪৮ জন আইনের আওতায় এলেও এখনো ৩৯ জন পলাতক রয়েছেন।
নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই বন্দী হলেন শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি গ্রামের মোজাম গাজী এবং আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেকি গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজী। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা দুজনই চেক জালিয়াতির (চেক ডিজঅনার) মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। এর মধ্যে মোজাম গাজীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ছয় লাখ টাকা এবং রফিকুলকে ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন আদালত।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, কারাগার থেকে পালানোর পর থেকে এই দুজন নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৪৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে বা স্বেচ্ছায় কারাগারে ফিরেছিলেন। সর্বশেষ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে পলাতক আছেন ৩৯ জন বন্দী। পলাতকদের নামের তালিকা ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পলাতক এই ৩৯ জনের তালিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি রয়েছেন। তারা হলেন সাতক্ষীরা সদরের সাহেব আলী ও ভাড়ুখালীর শাহাদাৎ হোসেন। এ ছাড়া হত্যা মামলার আসামি তালার আসমা বেগম ও আমিরুল ইসলাম, কলারোয়ার আবদুল আলিম এবং শ্যামনগরের শফিকুল ইসলামও এখনো ধরা পড়েননি। বাকিরা মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মারামারিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি।
গুরুতর অপরাধী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পলাতক থাকাকে জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মীরা। সাতক্ষীরার মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মুনির উদ্দিন মনে করেন, দাগি আসামিরা দীর্ঘদিন বাইরে থাকলে সমাজে নতুন করে অপরাধ সংঘটনের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। পলাতক ৩৯ জনের অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি তাদের আত্মগোপনে কেউ সহায়তা করছে কি না, সেটিও পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা কারাগারে মোট ৫৯৬ জন বন্দী ছিলেন। সেদিন সন্ধ্যায় কারাগারের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন বন্দিশালার দরজা ভেঙে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সুযোগে বিপুলসংখ্যক বন্দী পালিয়ে যান। পরে অনেকেই স্বেচ্ছায় ফিরে এলেও ৮৭ জন পলাতক ছিলেন। ফিরে না আসা এসব বন্দীর বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট কারাগার ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।


























