নিউইয়র্ক ১০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকারীর পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ

  • আপডেটের সময় : ০৪:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক জানান, পূর্ববর্তী আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে লিখিতভাবে জানান তিনি আর মামলাটি পরিচালনা করছেন না এবং ‘অনাপত্তিপত্র’ (এনওসি) প্রদান করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি তরান্বিত করতে আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণ ও ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ওই শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়। বোন জামাইয়ের বাবা হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা চালান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হলে পরবর্তীতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। উক্ত ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে প্রধান আসামি হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। একই বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান মূল আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। মামলার অপর তিন আসামি— সজীব শেখ, তাঁর ভাই ও মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি (ডেথ রেফারেন্স) গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে গত ৮ জুন হাইকোর্টে পৌঁছালে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল তুরস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকারীর পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ

আপডেটের সময় : ০৪:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক জানান, পূর্ববর্তী আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে লিখিতভাবে জানান তিনি আর মামলাটি পরিচালনা করছেন না এবং ‘অনাপত্তিপত্র’ (এনওসি) প্রদান করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি তরান্বিত করতে আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণ ও ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ওই শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়। বোন জামাইয়ের বাবা হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা চালান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হলে পরবর্তীতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। উক্ত ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে প্রধান আসামি হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। একই বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান মূল আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। মামলার অপর তিন আসামি— সজীব শেখ, তাঁর ভাই ও মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি (ডেথ রেফারেন্স) গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে গত ৮ জুন হাইকোর্টে পৌঁছালে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়।

Share this news as a Photo Card