নিউইয়র্ক ১০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে মিটার রিডারকে পিটুনি, উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে চিঠি

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫০:৫১ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের ক্ষোভের মধ্যে পাঁচবিবিতে পল্লী বিদ্যুতের এক মিটার রিডার মারধরের শিকার হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জেলার পাঁচ উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৬ থেকে ২৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় এই ঘাটতি অনেক বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুতের এই ঘাটতির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল কমছে না, বরং বেড়েছে।

এই অসন্তোষের জেরেই পাঁচবিবি উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডার মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে জেলার পাঁচ উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গ্রাহক মাহমুদা বেগম বলেন, ‘এমনিতেই বিদ্যুৎ থাকে না। তারপর বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে। আগে আমার ১৮০ টাকা বিল আসত, এখন সাড়ে তিন শ টাকা বিল আসছে। আমার বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ কিছুই নেই। শুধু বাল্ব ও দুটি ফ্যান চলে। গরিব মানুষ এত বেশি বিল এলে কীভাবে চলবে?’

আরেক গ্রাহক আবদুস সামাদ বলেন, ‘দিন-রাতে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে যখনই ঘুমাতে যাই, বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ঘুমাতে পারি না। অথচ বিদ্যুৎ বিল কম আসছে না।’

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ না বাড়লে এই সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণের সম্ভাবনা কম।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল তুরস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে মিটার রিডারকে পিটুনি, উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে চিঠি

আপডেটের সময় : ০৪:৫০:৫১ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

জয়পুরহাটে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের ক্ষোভের মধ্যে পাঁচবিবিতে পল্লী বিদ্যুতের এক মিটার রিডার মারধরের শিকার হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জেলার পাঁচ উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৬ থেকে ২৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় এই ঘাটতি অনেক বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুতের এই ঘাটতির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল কমছে না, বরং বেড়েছে।

এই অসন্তোষের জেরেই পাঁচবিবি উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডার মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে জেলার পাঁচ উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গ্রাহক মাহমুদা বেগম বলেন, ‘এমনিতেই বিদ্যুৎ থাকে না। তারপর বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে। আগে আমার ১৮০ টাকা বিল আসত, এখন সাড়ে তিন শ টাকা বিল আসছে। আমার বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ কিছুই নেই। শুধু বাল্ব ও দুটি ফ্যান চলে। গরিব মানুষ এত বেশি বিল এলে কীভাবে চলবে?’

আরেক গ্রাহক আবদুস সামাদ বলেন, ‘দিন-রাতে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে যখনই ঘুমাতে যাই, বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ঘুমাতে পারি না। অথচ বিদ্যুৎ বিল কম আসছে না।’

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ না বাড়লে এই সংকট থেকে দ্রুত উত্তরণের সম্ভাবনা কম।

Share this news as a Photo Card