নিউইয়র্ক ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরীকে ধর্ষণের শাস্তি ৭ বার কান ধরে ওঠবস

  • আপডেটের সময় : ০৫:০২:২১ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ১৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীর পরিবার পরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

স্বজনরা জানান, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে জাহিদুল ইসলাম ধর্ষণ করে এবং কাউকে না জানাতে হত্যার হুমকি দেয়। পরে কিশোরী তার বোনকে বিষয়টি জানায়।

পরদিন জাহিদুলের কাছে সকালে কিশোরীর বড় ভাই বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উল্টো চড়াও হন। মামলা করলে খারাপ পরিণামের হুঁশিয়ারিও দেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় গ্রামের সর্দারকে জানানো হলে সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে সালিশ বসানো হয়। সালিশে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে অভিযুক্ত জাহিদুলকে সাতবার কান ধরে ওঠবস করানোর মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়।

কিশোরীর বড় ভাইয়ের ভাষ্য, তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী না হলেও অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির। অন্যরা যা বলে, সে তা-ই শোনে এবং করে। অনেক কিছুই সে বুঝতে পারে না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার পর পলাতক থাকায় জাহিদুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন ইউপি সদস্য ফাহিমা আক্তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নাসিরনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কিশোরীকে ধর্ষণের শাস্তি ৭ বার কান ধরে ওঠবস

আপডেটের সময় : ০৫:০২:২১ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীর পরিবার পরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

স্বজনরা জানান, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে জাহিদুল ইসলাম ধর্ষণ করে এবং কাউকে না জানাতে হত্যার হুমকি দেয়। পরে কিশোরী তার বোনকে বিষয়টি জানায়।

পরদিন জাহিদুলের কাছে সকালে কিশোরীর বড় ভাই বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উল্টো চড়াও হন। মামলা করলে খারাপ পরিণামের হুঁশিয়ারিও দেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় গ্রামের সর্দারকে জানানো হলে সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে সালিশ বসানো হয়। সালিশে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে অভিযুক্ত জাহিদুলকে সাতবার কান ধরে ওঠবস করানোর মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়।

কিশোরীর বড় ভাইয়ের ভাষ্য, তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী না হলেও অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির। অন্যরা যা বলে, সে তা-ই শোনে এবং করে। অনেক কিছুই সে বুঝতে পারে না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার পর পলাতক থাকায় জাহিদুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন ইউপি সদস্য ফাহিমা আক্তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নাসিরনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Share this news as a Photo Card