নিউইয়র্ক ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ায় নিহত বেড়ে ৬৮, ত্রাণ-চিকিৎসা সংকটে হাজারো মানুষ

  • আপডেটের সময় : ০৫:৪৩:১২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে, আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৬শ আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবারের (১৫ আগস্ট) শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ এখনো স্পষ্ট ইন্দোনেশিয়ার দুর্গত এলাকাগুলোতে। কোথাও রাস্তাজুড়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, কোথাও ঘরবাড়ি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। এসব ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান। আবার নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় অনেক মানুষ ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।

ভূমিকম্পের পর ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তায় অনেকে তাঁবু, স্কুল ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রায় ১৬শ আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ফ্লোরেসেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে প্রায় ২৫০টি ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল ও সরকারি বিভিন্ন স্থাপনাও।

দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। তবে ভূমিধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছাতে সময় লাগছে। ফলে অনেক গ্রাম এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণের বাইরে রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ান রেড ক্রস জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর সুযোগ কিছুটা বাড়ায় উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলায়ও সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রুটেং শহরের হাসপাতালগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে দুটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গত মানুষের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে দুর্গত এলাকায় তীব্র হয়ে উঠেছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক দুর্গম গ্রামে এখনো পৌঁছায়নি জরুরি সহায়তা। কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ায় নিহত বেড়ে ৬৮, ত্রাণ-চিকিৎসা সংকটে হাজারো মানুষ

আপডেটের সময় : ০৫:৪৩:১২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে, আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৬শ আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবারের (১৫ আগস্ট) শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ এখনো স্পষ্ট ইন্দোনেশিয়ার দুর্গত এলাকাগুলোতে। কোথাও রাস্তাজুড়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, কোথাও ঘরবাড়ি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। এসব ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান। আবার নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় অনেক মানুষ ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।

ভূমিকম্পের পর ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তায় অনেকে তাঁবু, স্কুল ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রায় ১৬শ আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ফ্লোরেসেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে প্রায় ২৫০টি ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল ও সরকারি বিভিন্ন স্থাপনাও।

দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। তবে ভূমিধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছাতে সময় লাগছে। ফলে অনেক গ্রাম এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণের বাইরে রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ান রেড ক্রস জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর সুযোগ কিছুটা বাড়ায় উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলায়ও সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রুটেং শহরের হাসপাতালগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে দুটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গত মানুষের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে দুর্গত এলাকায় তীব্র হয়ে উঠেছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক দুর্গম গ্রামে এখনো পৌঁছায়নি জরুরি সহায়তা। কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে।

Share this news as a Photo Card