নিউইয়র্ক ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৮ বলে মাহিদুলের ৪৮, দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যাচ বাঁচাল বাংলাদেশ ‘এ’

  • আপডেটের সময় : ০৭:৫৫:০১ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ইনিংসে বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে একপর্যায়ে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ফলো-অন না করালে সেই শঙ্কা কাটলেও হারের চোখরাঙানি বজায় ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

বিশেষ করে ৪১০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মাত্র ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপর্যয়ে, ঠিক তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়ান মাহিদুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। এই তিন ব্যাটারের দায়িত্বশীল ও লড়াকু ব্যাটিংয়ে ভর করে শেষ পর্যন্ত চার দিনের ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

পচেফস্ট্রুমে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। মোদেরি লিথেকো ও মিচেল ভ্যান বুয়েনের জোড়া শতকের সুবাদে ৫ উইকেটে ৫১৯ রানের পাহাড় গড়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন পেসার ইকবাল হোসেন; তিনি ১৬ ওভারে একটি মেডেনসহ ৭৬ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে দল গুটিয়ে যায় মাত্র ২৩৯ রানে। দলের পক্ষে একাই লড়াই করে ২২৪ বলে সর্বোচ্চ ৯৭ রান করেন মাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া তিন নম্বরে নামা ইফতেখার হোসেন ১১১ বলে ৫০ রানের একটি কার্যকর ইনিংস উপহার দেন।

প্রথম ইনিংস থেকে ২৮০ রানের বিশাল লিড পেয়েও সফরকারীদের ফলো-অন করায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তারা ৪ উইকেটে ১৩০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রোটিয়াদের পতন হওয়া চারটি উইকেটের মধ্যে ৩টিই নিজের ঝুলিতে তোলেন পেসার ইকবাল হোসেন।

জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১০ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৭০ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। তবে সেখান থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মাহিদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে এই যুগল ২০৫ বলে ১০৫ রানের মূল্যবান এক জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন। আমিনুল ১৪৭ বল খেলে ৭৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

আমিনুল ফিরলেও উইকেটে অবিচল থাকেন মাহিদুল, তাকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন নাঈম হাসান। এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন দৃঢ়তায় শেষ দিনের বাকি সময় সফলভাবে পার করে দেয় বাংলাদেশ। মাহিদুল ২০৮ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং অন্য প্রান্তে ৭৯ বলে ৪৯ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলেন নাঈম হাসান। ফলে ম্যাচটি ড্র মেনে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

২০৮ বলে মাহিদুলের ৪৮, দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যাচ বাঁচাল বাংলাদেশ ‘এ’

আপডেটের সময় : ০৭:৫৫:০১ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

প্রথম ইনিংসে বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে একপর্যায়ে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ফলো-অন না করালে সেই শঙ্কা কাটলেও হারের চোখরাঙানি বজায় ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

বিশেষ করে ৪১০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মাত্র ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপর্যয়ে, ঠিক তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়ান মাহিদুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। এই তিন ব্যাটারের দায়িত্বশীল ও লড়াকু ব্যাটিংয়ে ভর করে শেষ পর্যন্ত চার দিনের ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

পচেফস্ট্রুমে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। মোদেরি লিথেকো ও মিচেল ভ্যান বুয়েনের জোড়া শতকের সুবাদে ৫ উইকেটে ৫১৯ রানের পাহাড় গড়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন পেসার ইকবাল হোসেন; তিনি ১৬ ওভারে একটি মেডেনসহ ৭৬ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে দল গুটিয়ে যায় মাত্র ২৩৯ রানে। দলের পক্ষে একাই লড়াই করে ২২৪ বলে সর্বোচ্চ ৯৭ রান করেন মাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া তিন নম্বরে নামা ইফতেখার হোসেন ১১১ বলে ৫০ রানের একটি কার্যকর ইনিংস উপহার দেন।

প্রথম ইনিংস থেকে ২৮০ রানের বিশাল লিড পেয়েও সফরকারীদের ফলো-অন করায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তারা ৪ উইকেটে ১৩০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রোটিয়াদের পতন হওয়া চারটি উইকেটের মধ্যে ৩টিই নিজের ঝুলিতে তোলেন পেসার ইকবাল হোসেন।

জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১০ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৭০ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। তবে সেখান থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মাহিদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে এই যুগল ২০৫ বলে ১০৫ রানের মূল্যবান এক জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন। আমিনুল ১৪৭ বল খেলে ৭৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

আমিনুল ফিরলেও উইকেটে অবিচল থাকেন মাহিদুল, তাকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন নাঈম হাসান। এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন দৃঢ়তায় শেষ দিনের বাকি সময় সফলভাবে পার করে দেয় বাংলাদেশ। মাহিদুল ২০৮ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং অন্য প্রান্তে ৭৯ বলে ৪৯ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলেন নাঈম হাসান। ফলে ম্যাচটি ড্র মেনে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

Share this news as a Photo Card