ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা ছাড়াই রাস্তায় রোবট পুলিশ মোতায়েন করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রয়টার্স জানায়, রূপালী পর্দার রোবোকপের মতো বন্দুক বা পায়ে হেঁটে চলাচলের ক্ষমতা না থাকলেও চাকার ওপর ভর করে এই রোবট ট্রাফিক নির্দেশনা দিচ্ছে।
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় হাংচৌ শহরের একটি ব্যস্ত মোড়ে ১.৮৮ মিটার দীর্ঘ এবং ৯৮ কেজি ওজনের এই ‘টি২’ রোবটটি দায়িত্বরত রয়েছে। স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাপকন ইনফরমেশন এটি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আনম্যানড সিস্টেমস ইনোভেশন সেন্টারের প্রধান কাও হুই জানান, ক্যামেরার মাধ্যমে হেলমেটহীন বাইকার, অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী ই-বাইক এবং সংকেত অমান্যকারীদের চিহ্নিত করে এই রোবটটি বিনয়ের সঙ্গে সতর্কবার্তা প্রদান করে।যন্ত্রচালিত মেকানিক্যাল হাত দিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঙ্কেত দেওয়া ছাড়াও সাধারণ মানুষের পথনির্দেশনা ও ট্রাফিক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে এই মেশিন।
এতে থাকা জরুরি বোতাম চেপে সরাসরি স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব। গত মে মাস থেকে হাংচৌতে ১৫টি রোবট পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা হেলমেটহীন গাড়ি চালানো এবং থামার দাগ অতিক্রমের মতো অপরাধ শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি কমিয়ে এনেছে।কাও হুই জানান, রোবটগুলো সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো ক্লান্তি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। এ পর্যন্ত চীনের ৩টি প্রদেশের ৮টি শহরে প্রায় ৫০টি রোবট কাজ করছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ২০০ স্পর্শ করতে পারে। তবে তীব্র সূর্যালোক ও বৃষ্টির কারণে ক্যামেরার কার্যকারিতা মাঝে মাঝে ব্যাহত হয়।
ভবিষ্যতে বিদেশে এই প্রযুক্তির রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা দেখছে চেরি-সমর্থিত রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান আইমোখা। তবে আইমোখার কর্মকর্তা চাং গুইবিং জানান, বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা, তথ্য সুরক্ষা আইন এবং স্থানীয় সার্টিফিকেশনের বাধার কারণে এগুলো রপ্তানি করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং।
সূত্র: রয়টার্স
ইত্তেফাক/টিএইচ



















