নিউইয়র্ক ০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাসমান দুই এলএনজি টার্মিনাল চালু, মধ্যরাত থেকে বাড়বে গ্যাস সরবরাহ

  • আপডেটের সময় : ০৮:৩৬:১৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আবার চালু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাত নাগাদ নতুন করে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশের চলমান গ্যাস-সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার দুপুরের দিকে এলএনজিবাহী একটি কার্গো মহেশখালীর সাগর উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কার্গো থেকে এলএনজি খালাস শুরু হওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হওয়ার কথা।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল ঘণ্টায় ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেল ৪টার দিকে তা বেড়ে ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়। একই সময়ে এলএনজিসহ দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে নিয়মিত সরবরাহ করা হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গত ২১ জুলাই সাগরে ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।

এরপর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান টার্মিনালে একাধিকবার বিপত্তি দেখা দিলে গ্যাস-সংকট আরও তীব্র হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। একপর্যায়ে সারা দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দেখা দেয়।

এদিকে গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার খবরে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিল্প মালিকেরা। তবে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, সেখানে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ নেওয়াজ পারভেজ বলেন, প্রথমে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা হবে। এরপর ঢাকাসহ তিতাসের আওতাধীন অন্যান্য এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। এ প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন পাইপলাইনে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও সব এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক চাপ ফিরে নাও আসতে পারে।

তিতাসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গরমের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই বরাদ্দ বহাল রেখে লাইনে পাওয়া অতিরিক্ত গ্যাস থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল তুরস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভাসমান দুই এলএনজি টার্মিনাল চালু, মধ্যরাত থেকে বাড়বে গ্যাস সরবরাহ

আপডেটের সময় : ০৮:৩৬:১৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আবার চালু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাত নাগাদ নতুন করে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশের চলমান গ্যাস-সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার দুপুরের দিকে এলএনজিবাহী একটি কার্গো মহেশখালীর সাগর উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কার্গো থেকে এলএনজি খালাস শুরু হওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হওয়ার কথা।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল ঘণ্টায় ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেল ৪টার দিকে তা বেড়ে ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়। একই সময়ে এলএনজিসহ দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে নিয়মিত সরবরাহ করা হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গত ২১ জুলাই সাগরে ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।

এরপর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান টার্মিনালে একাধিকবার বিপত্তি দেখা দিলে গ্যাস-সংকট আরও তীব্র হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। একপর্যায়ে সারা দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দেখা দেয়।

এদিকে গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার খবরে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিল্প মালিকেরা। তবে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, সেখানে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ নেওয়াজ পারভেজ বলেন, প্রথমে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা হবে। এরপর ঢাকাসহ তিতাসের আওতাধীন অন্যান্য এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। এ প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন পাইপলাইনে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও সব এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক চাপ ফিরে নাও আসতে পারে।

তিতাসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গরমের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই বরাদ্দ বহাল রেখে লাইনে পাওয়া অতিরিক্ত গ্যাস থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

Share this news as a Photo Card