নিউইয়র্ক ০৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিবাসী ঠেকাতে ১৬০০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক বসাচ্ছে স্পেন

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩৫:০৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় কয়েক দিন আগে হাজার হাজার অভিবাসীর ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন। মরক্কো-সেউতা উপকূলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৫০০ মিটার (প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট) দীর্ঘ এ স্ফীতযোগ্য ভাসমান প্রতিবন্ধক পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর সঙ্গে নৌবাহিনীর নোঙর করা বয়ার আরেকটি সারি যুক্ত করে সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

সাম্প্রতিক অভিবাসী ঢলের পর অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে যারা এখনো সেউতায় অবস্থান করছেন, তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সেউতায় প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ হাজার ৩০০ জনকে শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া আরও কয়েক শ অভিবাসী স্বেচ্ছায় সেউতা ছেড়ে চলে যান।

সেউতায় নিযুক্ত স্পেন সরকারের এক মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে শহরটিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টির বেশি সদস্যদেশ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে তার সরকারের অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন।

এদিকে সেউতার বিভিন্ন সৈকতে আফ্রিকার অন্যান্য দেশের শত শত অভিবাসীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তাদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা মরক্কোর নাগরিক নন, তাই তাদের ফেরত পাঠানো যাবে না বলে তারা মনে করছেন। কয়েকজন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবারের পর থেকে তারা কোনো খাবার পাননি।

সুদান থেকে পালিয়ে আসা ২৪ বছর বয়সী অভিবাসী কামাল ওমর বলেন, ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি দেশ ছেড়েছেন। গত বছর মরক্কোতে পৌঁছানোর পর এবার সেউতায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মরক্কোতে ফিরতে চাই না। আমাদের সুরক্ষা দিন।’

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, সমুদ্রে ভাসমান বয়া বসিয়ে সীমান্তে একটি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধক তৈরি করা হবে। তার দাবি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে মানব পাচারকারীরা অভিবাসীদের উৎসাহিত করেছে। 

তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারবিষয়ক কর্মকর্তা জুডিথ সান্ডারল্যান্ড স্পেনের এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি সাঁতরে এ প্রতিবন্ধক অতিক্রমের চেষ্টা করেন, তখন কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি ২০১৪ সালে সেউতায় অভিবাসীদের দিকে রাবারের গুলি ছোড়ার ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পাকিস্তানে বিক্ষোভস্থলের মাঝে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৭

পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

অভিবাসী ঠেকাতে ১৬০০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক বসাচ্ছে স্পেন

আপডেটের সময় : ০৭:৩৫:০৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় কয়েক দিন আগে হাজার হাজার অভিবাসীর ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন। মরক্কো-সেউতা উপকূলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৫০০ মিটার (প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট) দীর্ঘ এ স্ফীতযোগ্য ভাসমান প্রতিবন্ধক পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর সঙ্গে নৌবাহিনীর নোঙর করা বয়ার আরেকটি সারি যুক্ত করে সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

সাম্প্রতিক অভিবাসী ঢলের পর অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে যারা এখনো সেউতায় অবস্থান করছেন, তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সেউতায় প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ হাজার ৩০০ জনকে শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া আরও কয়েক শ অভিবাসী স্বেচ্ছায় সেউতা ছেড়ে চলে যান।

সেউতায় নিযুক্ত স্পেন সরকারের এক মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে শহরটিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টির বেশি সদস্যদেশ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে তার সরকারের অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন।

এদিকে সেউতার বিভিন্ন সৈকতে আফ্রিকার অন্যান্য দেশের শত শত অভিবাসীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তাদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা মরক্কোর নাগরিক নন, তাই তাদের ফেরত পাঠানো যাবে না বলে তারা মনে করছেন। কয়েকজন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবারের পর থেকে তারা কোনো খাবার পাননি।

সুদান থেকে পালিয়ে আসা ২৪ বছর বয়সী অভিবাসী কামাল ওমর বলেন, ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি দেশ ছেড়েছেন। গত বছর মরক্কোতে পৌঁছানোর পর এবার সেউতায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মরক্কোতে ফিরতে চাই না। আমাদের সুরক্ষা দিন।’

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, সমুদ্রে ভাসমান বয়া বসিয়ে সীমান্তে একটি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধক তৈরি করা হবে। তার দাবি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে মানব পাচারকারীরা অভিবাসীদের উৎসাহিত করেছে। 

তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারবিষয়ক কর্মকর্তা জুডিথ সান্ডারল্যান্ড স্পেনের এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি সাঁতরে এ প্রতিবন্ধক অতিক্রমের চেষ্টা করেন, তখন কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি ২০১৪ সালে সেউতায় অভিবাসীদের দিকে রাবারের গুলি ছোড়ার ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Share this news as a Photo Card