নিউইয়র্ক ১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে ঘিরে নতুন মার্কিন পরিকল্পনা জানানো হলো ইসরায়েলকে

  • আপডেটের সময় : ০৫:১৪:২৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন দিনগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার বিষয়ে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের বিনোদন ও সংবাদ মাধ্যম কান-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনা ও দুই মিত্র দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয় জানা গেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি ও মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে কান জানিয়েছে যে তেহরান সম্ভাব্য পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলে হামলা চালালে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা সত্ত্বেও সংঘাতের বর্তমান ধাপে ইসরায়েলকে সরাসরি জড়িত না রাখার পক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা তেল আবিবকে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। 

দুই মিত্রের কৌশলগত মূল্যায়নে দেখা গেছে যে ইরান হয়তো ইসরায়েলে আক্রমণ চালাবে, যার জবাবে ইসরায়েলও ইরানি ভূখণ্ডে পাল্টা আঘাত হানতে বাধ্য হতে পারে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন আপাতত এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে চাইছে।

সামরিক সক্ষমতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। আমেরিকান স্বার্থের ওপর সম্ভাব্য ইরানি আঘাত মোকাবিলা ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপ ও কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে ১০টিরও বেশি মার্কিন এয়ারিয়াল রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ইতিমধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছেছে।

অন্য দিকে ইসরায়েলি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়েনটে উদ্ধৃত বিমান বাহিনীর এক সূত্রে জানা গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ১০০টি এয়ারিয়াল রিফুয়েলিং বিমান ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি ও দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দরে মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। 

সূত্রটি উল্লেখ করে যে ইরানের ওপর মার্কিন বিমান আক্রমণ আরও প্রসারিত করতে হলে ইসরায়েলে আরও বেশি সংখ্যক আমেরিকান জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের উপস্থিতি প্রয়োজন। ওয়েনট আরও যোগ করে যে এসব বিমানের কয়েকটি তেল আবিবের নিকটস্থ বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও কাজ চালাতে পারে, যেখানে গত সপ্তাহের শেষ দিকেই অতিরিক্ত ১৪টি রিফুয়েলিং বিমান অবতরণ করেছে।

গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হামলা প্রতি হামলার ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ওয়াশিংটনের বর্ধিত আক্রমণের জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা জোরালো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনজীরকে ফেরাতে দুবাই পুলিশের চাওয়া তথ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে: দুদক

মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে: আইনমন্ত্রী

২১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানকে ঘিরে নতুন মার্কিন পরিকল্পনা জানানো হলো ইসরায়েলকে

আপডেটের সময় : ০৫:১৪:২৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

আসন্ন দিনগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার বিষয়ে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের বিনোদন ও সংবাদ মাধ্যম কান-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনা ও দুই মিত্র দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয় জানা গেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি ও মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে কান জানিয়েছে যে তেহরান সম্ভাব্য পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলে হামলা চালালে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা সত্ত্বেও সংঘাতের বর্তমান ধাপে ইসরায়েলকে সরাসরি জড়িত না রাখার পক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা তেল আবিবকে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। 

দুই মিত্রের কৌশলগত মূল্যায়নে দেখা গেছে যে ইরান হয়তো ইসরায়েলে আক্রমণ চালাবে, যার জবাবে ইসরায়েলও ইরানি ভূখণ্ডে পাল্টা আঘাত হানতে বাধ্য হতে পারে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন আপাতত এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে চাইছে।

সামরিক সক্ষমতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। আমেরিকান স্বার্থের ওপর সম্ভাব্য ইরানি আঘাত মোকাবিলা ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপ ও কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে ১০টিরও বেশি মার্কিন এয়ারিয়াল রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ইতিমধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছেছে।

অন্য দিকে ইসরায়েলি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়েনটে উদ্ধৃত বিমান বাহিনীর এক সূত্রে জানা গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ১০০টি এয়ারিয়াল রিফুয়েলিং বিমান ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি ও দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দরে মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। 

সূত্রটি উল্লেখ করে যে ইরানের ওপর মার্কিন বিমান আক্রমণ আরও প্রসারিত করতে হলে ইসরায়েলে আরও বেশি সংখ্যক আমেরিকান জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের উপস্থিতি প্রয়োজন। ওয়েনট আরও যোগ করে যে এসব বিমানের কয়েকটি তেল আবিবের নিকটস্থ বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও কাজ চালাতে পারে, যেখানে গত সপ্তাহের শেষ দিকেই অতিরিক্ত ১৪টি রিফুয়েলিং বিমান অবতরণ করেছে।

গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হামলা প্রতি হামলার ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ওয়াশিংটনের বর্ধিত আক্রমণের জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা জোরালো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Share this news as a Photo Card