নিউইয়র্ক ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া চালানে আসামির জামিনের ঘটনায় বরগুনা আদালতে তোলপাড়

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার আদালতে ভুয়া চালান ফরম জমা দিয়ে মো. মাহবুবুল আলম নামে এক আসামির জামিন নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি ও জজ আদালতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফরমটি সত্যায়িত করে আদালতে জমা দেওয়া আইনজীবী মো. গোলাম মোস্তফা সুমন এ ঘটনায় আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে এমন প্রতারণার বিচার দাবি করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতি ও ভুক্তভোগী পরিবার।

আদালত ও মামলার বাদী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর মামলার বাদী বরগুনা শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কের মো. শাহজালাল বিল্লাহর কাছ থেকে একটি নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে ব্যবসায়ের কাজে ১০ লাখ টাকা নেন আসামি মো. মাহবুবুল আলম। ওই টাকা পরিশোধের জন্য ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল  আসামি মো. মাহবুবুল আলম ইসলামী ব্যাংক বরগুনা শাখায় তার ব্যক্তিগত হিসেবের ১০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু শাহজালাল ব্যাংকে গিয়ে ওই হিসেবে কোনো টাকা পাননি।

পরে চেক প্রতারণার ঘটনায় বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০২৩ সালের ৭ জুলাই মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর ৮৩২/২০২৩) মো. শাহজালাল বিল্লাহ। ওই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বরগুনা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক ১০ লাখ টাকা বাদীকে প্রদানের আদেশ দেন। এ আদেশের প্রেক্ষিতে আসামি মাহবুবুল আলম আদেশ করা টাকার ৫ লাখ (অর্ধেক পরিমাণ) টাকার ভুয়া চালান (আইনজীবী কর্তৃক সত্যায়িত) জমা দিয়ে (চালান নম্বর ১১, সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখা বরগুনা) আদালতে আপিল ও জামিন আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আসামির আপিল ও জামিন মঞ্জুর করেন।

পরবর্তীতে এ বছরের ১২ এপ্রিল বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আপিল নামঞ্জুর করে আসামির ৬ মাসের সাজা বহাল রেখে চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা প্রদানের আদেশ দেন। পাশাপাশি মামলার বাদীকে আসামির চালানের মাধ্যমে জমা করা ৫ লাখ টাকা উত্তোলনেরও আদেশ দেন। 

আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাদী শাহজালাল বরগুনা হিসাবরক্ষণ অফিস ও সোনালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে জানতে পারেন ওই ৫ লাখ টাকার চালান ভুয়া এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতে জমা করা হয়েছে। বিষয়টি গত ১২ জুলাই বাদী শাহজালাল বরগুনা জেলা যুগ্ম জজ ১ম আদালতে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। আদালতের বিচারক আগামী ২২ জুলাই শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এদিকে আসামির আইনজীবী মো. গোলাম মোস্তফা সুমন জানান, নিশ্চিত না হয়ে ভুয়া চালান কপিতে সত্যায়িত করে আদালতে দাখিল করার বিষয়ে, গত ৯ জুলাই একই আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে আসামি মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন তিনি। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি মাহবুবুল আলম পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কিসমতপুর দেলোয়ার হোসেন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক।

তবে এ বিষয়ে কথা বলতে আসামি মো. মাহবুবুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে মামলার বাদী মো. শাহজালাল বিল্লাহ্ আসামী মাহবুবুল আলমের প্রতারণার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও বিচার দাবি করেন।

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নুরুল আমিন বলেন, আইনজীবীরা সাধারণত তাদের সহকারীদের মাধ্যমে চালান কপি আসলে বিশ্বাসের সঙ্গে সত্যায়িত করে আদালতে জমা দেন। কিন্তু এবারের ঘটনাটা খুবই দু:খজনক।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ ধরনের চালান কপি ব্যাংকের মাধ্যমে

নিশ্চিত না হয়ে কেউ আদালতে দাখিল করবেন না। পাশাপাশি এসব জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধেও বিচার দাবি করেন অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

খাসলত ভালো না হওয়ায় তাদের সঙ্গে এমনটা ঘটে: সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

২১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভুয়া চালানে আসামির জামিনের ঘটনায় বরগুনা আদালতে তোলপাড়

আপডেটের সময় : ০৪:৫২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বরগুনার আদালতে ভুয়া চালান ফরম জমা দিয়ে মো. মাহবুবুল আলম নামে এক আসামির জামিন নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি ও জজ আদালতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফরমটি সত্যায়িত করে আদালতে জমা দেওয়া আইনজীবী মো. গোলাম মোস্তফা সুমন এ ঘটনায় আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে এমন প্রতারণার বিচার দাবি করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতি ও ভুক্তভোগী পরিবার।

আদালত ও মামলার বাদী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর মামলার বাদী বরগুনা শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কের মো. শাহজালাল বিল্লাহর কাছ থেকে একটি নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে ব্যবসায়ের কাজে ১০ লাখ টাকা নেন আসামি মো. মাহবুবুল আলম। ওই টাকা পরিশোধের জন্য ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল  আসামি মো. মাহবুবুল আলম ইসলামী ব্যাংক বরগুনা শাখায় তার ব্যক্তিগত হিসেবের ১০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু শাহজালাল ব্যাংকে গিয়ে ওই হিসেবে কোনো টাকা পাননি।

পরে চেক প্রতারণার ঘটনায় বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০২৩ সালের ৭ জুলাই মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর ৮৩২/২০২৩) মো. শাহজালাল বিল্লাহ। ওই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বরগুনা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক ১০ লাখ টাকা বাদীকে প্রদানের আদেশ দেন। এ আদেশের প্রেক্ষিতে আসামি মাহবুবুল আলম আদেশ করা টাকার ৫ লাখ (অর্ধেক পরিমাণ) টাকার ভুয়া চালান (আইনজীবী কর্তৃক সত্যায়িত) জমা দিয়ে (চালান নম্বর ১১, সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখা বরগুনা) আদালতে আপিল ও জামিন আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আসামির আপিল ও জামিন মঞ্জুর করেন।

পরবর্তীতে এ বছরের ১২ এপ্রিল বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আপিল নামঞ্জুর করে আসামির ৬ মাসের সাজা বহাল রেখে চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা প্রদানের আদেশ দেন। পাশাপাশি মামলার বাদীকে আসামির চালানের মাধ্যমে জমা করা ৫ লাখ টাকা উত্তোলনেরও আদেশ দেন। 

আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাদী শাহজালাল বরগুনা হিসাবরক্ষণ অফিস ও সোনালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে জানতে পারেন ওই ৫ লাখ টাকার চালান ভুয়া এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতে জমা করা হয়েছে। বিষয়টি গত ১২ জুলাই বাদী শাহজালাল বরগুনা জেলা যুগ্ম জজ ১ম আদালতে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। আদালতের বিচারক আগামী ২২ জুলাই শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এদিকে আসামির আইনজীবী মো. গোলাম মোস্তফা সুমন জানান, নিশ্চিত না হয়ে ভুয়া চালান কপিতে সত্যায়িত করে আদালতে দাখিল করার বিষয়ে, গত ৯ জুলাই একই আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে আসামি মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন তিনি। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি মাহবুবুল আলম পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কিসমতপুর দেলোয়ার হোসেন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক।

তবে এ বিষয়ে কথা বলতে আসামি মো. মাহবুবুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে মামলার বাদী মো. শাহজালাল বিল্লাহ্ আসামী মাহবুবুল আলমের প্রতারণার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও বিচার দাবি করেন।

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নুরুল আমিন বলেন, আইনজীবীরা সাধারণত তাদের সহকারীদের মাধ্যমে চালান কপি আসলে বিশ্বাসের সঙ্গে সত্যায়িত করে আদালতে জমা দেন। কিন্তু এবারের ঘটনাটা খুবই দু:খজনক।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ ধরনের চালান কপি ব্যাংকের মাধ্যমে

নিশ্চিত না হয়ে কেউ আদালতে দাখিল করবেন না। পাশাপাশি এসব জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধেও বিচার দাবি করেন অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন।

Share this news as a Photo Card