নিউইয়র্ক ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩৬:৪৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, যারা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করেন, তাদের আগে নিজেদের সরকারের কর্মকাণ্ড ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করা উচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর খবরে বলা হয়, আরবি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘেই বলেন, ইরান একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ। ইসলাম গ্রহণের পর ফিকহ, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামী সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে দেশটি।

তিনি কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ইসলামে মর্যাদার ভিত্তি ভাষা, জাতি বা ভৌগোলিক পরিচয় নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।

বাঘায়ির ভাষ্য, কেবল আরব বা আরবি ভাষাভাষী হওয়ার কারণে কোনো শাসক নিজেকে মহানবি (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি দাবি করতে পারেন না। এমন দাবি ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের প্রতি প্রকৃত আনুগত্যের বিকল্প হতে পারে না। কারণ পবিত্র কোরআনে বর্ণিত রয়েছে, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।’

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের নীতি অনুসরণ করেছে। এমনকি ইরানের ভূখণ্ড থেকে পৃথক হয়ে গঠিত নতুন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও একই নীতি বজায় রাখা হয়েছে।

কোরআনের আয়াত ও মহানবি (সা.)-এর বাণী উল্লেখ করে বাঘেই বলেন, মুসলমানদের কখনো জালিমের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত নয়। তার প্রশ্ন, একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালানো শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া এসব কি ইসলামের ন্যায়বিচার, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

তিনি দাবি করেন, এসব প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরআন, মহানবি (সা.)-এর সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর বিবেকেই স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

সম্প্রতি বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়ে মহানবি (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মহানবি (সা.) ইরানকে অন্ধকার থেকে জ্ঞান ও মানবিকতার পথে পরিচালিত করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবে তেহরানের উচিত বাহরাইনের বিরুদ্ধে হামলা থেকে বিরত থাকা।

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পাকিস্তানে বিক্ষোভস্থলের মাঝে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৭

পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা

আপডেটের সময় : ০৭:৩৬:৪৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, যারা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করেন, তাদের আগে নিজেদের সরকারের কর্মকাণ্ড ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করা উচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর খবরে বলা হয়, আরবি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘেই বলেন, ইরান একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ। ইসলাম গ্রহণের পর ফিকহ, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামী সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে দেশটি।

তিনি কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ইসলামে মর্যাদার ভিত্তি ভাষা, জাতি বা ভৌগোলিক পরিচয় নয়; বরং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।

বাঘায়ির ভাষ্য, কেবল আরব বা আরবি ভাষাভাষী হওয়ার কারণে কোনো শাসক নিজেকে মহানবি (সা.)-এর মিশনের প্রতিনিধি দাবি করতে পারেন না। এমন দাবি ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের প্রতি প্রকৃত আনুগত্যের বিকল্প হতে পারে না। কারণ পবিত্র কোরআনে বর্ণিত রয়েছে, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।’

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের নীতি অনুসরণ করেছে। এমনকি ইরানের ভূখণ্ড থেকে পৃথক হয়ে গঠিত নতুন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও একই নীতি বজায় রাখা হয়েছে।

কোরআনের আয়াত ও মহানবি (সা.)-এর বাণী উল্লেখ করে বাঘেই বলেন, মুসলমানদের কখনো জালিমের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত নয়। তার প্রশ্ন, একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালানো শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া এসব কি ইসলামের ন্যায়বিচার, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

তিনি দাবি করেন, এসব প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরআন, মহানবি (সা.)-এর সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর বিবেকেই স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

সম্প্রতি বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়ে মহানবি (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মহানবি (সা.) ইরানকে অন্ধকার থেকে জ্ঞান ও মানবিকতার পথে পরিচালিত করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবে তেহরানের উচিত বাহরাইনের বিরুদ্ধে হামলা থেকে বিরত থাকা।

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

Share this news as a Photo Card