নিউইয়র্ক ০৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু, উদ্বোধন করলেন মোদি

  • আপডেটের সময় : ০৫:২৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চেন্নাইভিত্তিক ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি নির্মিত এই ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যে ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে চলাচল করবে। রুটটি উত্তর রেলওয়ের দিল্লি ডিভিশনের আওতাধীন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে, গত ২২ মে এই ট্রেনে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতের রেল বিভাগের নীতি নির্ধারনীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান রেল বোর্ড (আইআরবি)। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হতে চলেছে। হয়েছিল ট্রায়াল রানও। এ বার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে ট্রেন।

জানা যায়, এই ট্রেন চালুর মাধ্যমে ভারত জার্মানি, জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর রেল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা দেশগুলোর কাতারে যোগ দিলো। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডও একটি হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন উন্মোচন করেছে, তবে সেটি ন্যারো গেজ রেলপথের জন্য তৈরি।

ভারতের রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত সেকশনকে এই প্রকল্পের পাইলট রুট হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ট্রেনটির জন্য জিন্দে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাস সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দিয়েছে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন।

হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে বিবেচনা। তাই এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি পরিবহণের জগতকে এক নতুন দিশার দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। তা দিয়েই ছুটবে ট্রেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না, বের হয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণও প্রায় শূন্যের কোঠায়। এসব কারণেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে জীবাশ্ম জ্বালানির জায়গায় ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করছে হাইড্রোজেন জ্বালানি।

ট্রেনটিতে রয়েছে দুটি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি ট্রেলার কোচ। প্রতিটি পাওয়ার কারে ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণ সিলিন্ডার রয়েছে। এই তিনটি ব্যবস্থা একসঙ্গে ট্রেনের ট্র্যাকশন শক্তি সরবরাহ করে এবং বিভিন্ন পরিচালনাগত পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্যভাবে ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করে। ট্রেনের দুই প্রান্তে থাকা দুটি পাওয়ার কারের প্রতিটি ১২০০ কিলোওয়াট বা ১৬০০ অশ্বশক্তি ক্ষমতা উৎপন্ন করতে পারে। সম্মিলিতভাবে এগুলো ট্রেনটিকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিতে চালাতে সক্ষম।

কোন কোন রুটে চলবে হাইড্রোজেন ট্রেন

হরিয়ানা রাজ্যের জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্টসহ একাধিক স্টেশনে থামবে। ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে যাত্রা সফল হলে হরিয়ানার কালকা শহর থেকে হিমাচল রাজ্যের রাজধানী শিমলা রুটেও চালু হতে পারে এ ট্রেন।

যেভাবে কাজ করে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের ইঞ্জিন

ভারতীয় রেল জানিয়েছে, জিন্দে নির্মিত বিশেষ হাইড্রোজেন সংরক্ষণ, সংকোচন ও সরবরাহ কেন্দ্র থেকেই ট্রেনে জ্বালানি ভরা হবে। এটি অনেকটা পেট্রোল পাম্প বা সিএনজি স্টেশনের মতো কাজ করবে। প্রথম ধাপে গ্রিন হাইড্রোজেন প্ল্যান্টে ইলেক্ট্রোলাইসিস পদ্ধতিতে পানি থেকে বিদ্যুতের সাহায্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পৃথক করা হবে। উৎপাদিত হাইড্রোজেন নিরাপদ সংরক্ষণ ট্যাংকে রাখা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে হাইড্রোজেনকে ৫০০ বার চাপে সংকুচিত করা হবে, যাতে কম জায়গায় বেশি পরিমাণ গ্যাস সংরক্ষণ করা যায়। শেষ ধাপে দুটি স্বাধীন হাইড্রোজেন ডিসপেনসারের মাধ্যমে ৩৫০ বার নিয়ন্ত্রিত চাপে একই সময়ে দুটি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কারে জ্বালানি ভরা হবে। এতে রিফুয়েলিংয়ের সময় কমে যাবে। এই কেন্দ্রে একসঙ্গে প্রায় ৩০০০ কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা যায়, যা ট্রেনের নিয়মিত পরিচালনার জন্য যথেষ্ট।

রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড প্রণয়ন করেছে এবং নকশা অনুমোদনের নেতৃত্ব দিয়েছে। মেসার্স মেধা সার্ভো ড্রাইভস ট্রেনসেটের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছে। অন্যদিকে ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি ট্রেনটির থিম ও বাহ্যিক নকশা তৈরি করেছে।

কতটা নিরাপদ এই ট্রেন?

হাইড্রোজেন বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং বিষমুক্ত হলেও এটি অত্যন্ত দাহ্য। তাই পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সামান্যতম গ্যাস লিকও সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করা যায়। ট্রেন ও হাইড্রোজেন প্ল্যান্টে সার্বক্ষণিকভাবে হাইড্রোজেন লিক, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, আগুন এবং ধোঁয়া শনাক্ত করার জন্য বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বায়ুচলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, যাতে কোনো কারণে সামান্য হাইড্রোজেন বের হলেও তা দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে যায় এবং কোথাও জমে না থাকে।

এছাড়া একটি স্বয়ংক্রিয় শাটডাউন ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে এটি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই হাইড্রোজেন সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। লোকো পাইলটের কেবিনও বিশেষভাবে নিরাপদভাবে নকশা করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ মোড রয়েছে এবং একটি মনিটরে পুরো সিস্টেমের বাস্তব সময়ের অবস্থা দেখা যায়।

জিন্দের হাইড্রোজেন প্ল্যান্টেও হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফ্লেম ডিটেক্টর, স্বয়ংক্রিয় শাটডাউন ব্যবস্থা, আগুন নিয়ন্ত্রণে ওয়াটার স্প্রে এবং ফায়ার অ্যালার্ম রয়েছে। ভারতীয় রেলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রেনটি চালুর আগে পুরো ব্যবস্থার স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করেছে জার্মানির বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিগত পরিদর্শন ও সার্টিফিকেশন সংস্থা টিইউভি এসইউডি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

সিআইএ-মোসাদের সঙ্গে এপস্টাইনের যোগাযোগ ছিল: ভ্যান্স

১৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভারতে প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু, উদ্বোধন করলেন মোদি

আপডেটের সময় : ০৫:২৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ভারতের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চেন্নাইভিত্তিক ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি নির্মিত এই ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যে ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে চলাচল করবে। রুটটি উত্তর রেলওয়ের দিল্লি ডিভিশনের আওতাধীন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে, গত ২২ মে এই ট্রেনে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতের রেল বিভাগের নীতি নির্ধারনীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান রেল বোর্ড (আইআরবি)। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হতে চলেছে। হয়েছিল ট্রায়াল রানও। এ বার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে ট্রেন।

জানা যায়, এই ট্রেন চালুর মাধ্যমে ভারত জার্মানি, জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর রেল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা দেশগুলোর কাতারে যোগ দিলো। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডও একটি হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন উন্মোচন করেছে, তবে সেটি ন্যারো গেজ রেলপথের জন্য তৈরি।

ভারতের রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত সেকশনকে এই প্রকল্পের পাইলট রুট হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ট্রেনটির জন্য জিন্দে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাস সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দিয়েছে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন।

হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে বিবেচনা। তাই এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি পরিবহণের জগতকে এক নতুন দিশার দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। তা দিয়েই ছুটবে ট্রেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না, বের হয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণও প্রায় শূন্যের কোঠায়। এসব কারণেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে জীবাশ্ম জ্বালানির জায়গায় ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করছে হাইড্রোজেন জ্বালানি।

ট্রেনটিতে রয়েছে দুটি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি ট্রেলার কোচ। প্রতিটি পাওয়ার কারে ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণ সিলিন্ডার রয়েছে। এই তিনটি ব্যবস্থা একসঙ্গে ট্রেনের ট্র্যাকশন শক্তি সরবরাহ করে এবং বিভিন্ন পরিচালনাগত পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্যভাবে ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করে। ট্রেনের দুই প্রান্তে থাকা দুটি পাওয়ার কারের প্রতিটি ১২০০ কিলোওয়াট বা ১৬০০ অশ্বশক্তি ক্ষমতা উৎপন্ন করতে পারে। সম্মিলিতভাবে এগুলো ট্রেনটিকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিতে চালাতে সক্ষম।

কোন কোন রুটে চলবে হাইড্রোজেন ট্রেন

হরিয়ানা রাজ্যের জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্টসহ একাধিক স্টেশনে থামবে। ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে যাত্রা সফল হলে হরিয়ানার কালকা শহর থেকে হিমাচল রাজ্যের রাজধানী শিমলা রুটেও চালু হতে পারে এ ট্রেন।

যেভাবে কাজ করে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের ইঞ্জিন

ভারতীয় রেল জানিয়েছে, জিন্দে নির্মিত বিশেষ হাইড্রোজেন সংরক্ষণ, সংকোচন ও সরবরাহ কেন্দ্র থেকেই ট্রেনে জ্বালানি ভরা হবে। এটি অনেকটা পেট্রোল পাম্প বা সিএনজি স্টেশনের মতো কাজ করবে। প্রথম ধাপে গ্রিন হাইড্রোজেন প্ল্যান্টে ইলেক্ট্রোলাইসিস পদ্ধতিতে পানি থেকে বিদ্যুতের সাহায্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পৃথক করা হবে। উৎপাদিত হাইড্রোজেন নিরাপদ সংরক্ষণ ট্যাংকে রাখা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে হাইড্রোজেনকে ৫০০ বার চাপে সংকুচিত করা হবে, যাতে কম জায়গায় বেশি পরিমাণ গ্যাস সংরক্ষণ করা যায়। শেষ ধাপে দুটি স্বাধীন হাইড্রোজেন ডিসপেনসারের মাধ্যমে ৩৫০ বার নিয়ন্ত্রিত চাপে একই সময়ে দুটি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কারে জ্বালানি ভরা হবে। এতে রিফুয়েলিংয়ের সময় কমে যাবে। এই কেন্দ্রে একসঙ্গে প্রায় ৩০০০ কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা যায়, যা ট্রেনের নিয়মিত পরিচালনার জন্য যথেষ্ট।

রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড প্রণয়ন করেছে এবং নকশা অনুমোদনের নেতৃত্ব দিয়েছে। মেসার্স মেধা সার্ভো ড্রাইভস ট্রেনসেটের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছে। অন্যদিকে ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি ট্রেনটির থিম ও বাহ্যিক নকশা তৈরি করেছে।

কতটা নিরাপদ এই ট্রেন?

হাইড্রোজেন বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং বিষমুক্ত হলেও এটি অত্যন্ত দাহ্য। তাই পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সামান্যতম গ্যাস লিকও সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করা যায়। ট্রেন ও হাইড্রোজেন প্ল্যান্টে সার্বক্ষণিকভাবে হাইড্রোজেন লিক, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, আগুন এবং ধোঁয়া শনাক্ত করার জন্য বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বায়ুচলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, যাতে কোনো কারণে সামান্য হাইড্রোজেন বের হলেও তা দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে যায় এবং কোথাও জমে না থাকে।

এছাড়া একটি স্বয়ংক্রিয় শাটডাউন ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে এটি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই হাইড্রোজেন সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। লোকো পাইলটের কেবিনও বিশেষভাবে নিরাপদভাবে নকশা করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ মোড রয়েছে এবং একটি মনিটরে পুরো সিস্টেমের বাস্তব সময়ের অবস্থা দেখা যায়।

জিন্দের হাইড্রোজেন প্ল্যান্টেও হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফ্লেম ডিটেক্টর, স্বয়ংক্রিয় শাটডাউন ব্যবস্থা, আগুন নিয়ন্ত্রণে ওয়াটার স্প্রে এবং ফায়ার অ্যালার্ম রয়েছে। ভারতীয় রেলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রেনটি চালুর আগে পুরো ব্যবস্থার স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করেছে জার্মানির বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিগত পরিদর্শন ও সার্টিফিকেশন সংস্থা টিইউভি এসইউডি।

Share this news as a Photo Card