নিউইয়র্ক ০৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোজতবা খামেনির ‘৯০ শতাংশই শেষ’: ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০৬:৫৭:২২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের বড় অংশই নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে গত সপ্তাহে নিজের বাবার জানাজায় অনুপস্থিত থাকা ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনির ‘নব্বই শতাংশই শেষ’ হয়ে গেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফক্স নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে চলমান যুদ্ধে তেহরানের সেরা সামরিক নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি গত আটাশ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ভুলবশত ‘খোমেনি’ নামে সম্বোধন করে বলেন যে ‘খোমেনি চলে গেছেন এবং তার ছেলেও এখন নব্বই শতাংশ শেষ’। 

গত আটাশ ফেব্রুয়ারি বাবা আলি খামেনি নিহত হওয়ার ওই একই মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি, যা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন তীব্র মন্তব্য করলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে দেশের কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন যে তার সরাসরি আদেশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একাধিকবার জোরালো বিমান হামলা চালানোর মাধ্যমে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। 

এর পাশাপাশি তিনি বৈশ্বিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে এখন থেকে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ফি বা মাশুল আদায় করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে চালানো ইরানি হামলায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। 

এই ঘটনার পর আমিরাতও তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় দুবাই ও আবুধাবির মতো বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলো পুনরায় যুদ্ধের চপেটাঘাতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতেই ওয়াশিংটন ও তেহরান এই মরণপণ লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পদত্যাগ করছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সতর্কতা উপেক্ষা, হরমুজে দুই সুপার ট্যাংকার অচল

১৪ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মোজতবা খামেনির ‘৯০ শতাংশই শেষ’: ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০৬:৫৭:২২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের বড় অংশই নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে গত সপ্তাহে নিজের বাবার জানাজায় অনুপস্থিত থাকা ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনির ‘নব্বই শতাংশই শেষ’ হয়ে গেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফক্স নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে চলমান যুদ্ধে তেহরানের সেরা সামরিক নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি গত আটাশ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ভুলবশত ‘খোমেনি’ নামে সম্বোধন করে বলেন যে ‘খোমেনি চলে গেছেন এবং তার ছেলেও এখন নব্বই শতাংশ শেষ’। 

গত আটাশ ফেব্রুয়ারি বাবা আলি খামেনি নিহত হওয়ার ওই একই মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি, যা তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন তীব্র মন্তব্য করলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে দেশের কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন যে তার সরাসরি আদেশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একাধিকবার জোরালো বিমান হামলা চালানোর মাধ্যমে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। 

এর পাশাপাশি তিনি বৈশ্বিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে এখন থেকে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ফি বা মাশুল আদায় করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে চালানো ইরানি হামলায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। 

এই ঘটনার পর আমিরাতও তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় দুবাই ও আবুধাবির মতো বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলো পুনরায় যুদ্ধের চপেটাঘাতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতেই ওয়াশিংটন ও তেহরান এই মরণপণ লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card