নিউইয়র্ক ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ নিয়ে বৈঠক শুরু কাল, আলোচনা হবে নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১২ সদস্যের মিশন। মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশনের প্রধান ইভো ক্রজনার।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। আলোচনার অংশ হিসেবে সচিবালয়ে আগামীকাল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে তাদের। এসব বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া ও অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতি সূচকগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি, কর–ব্যয়ের সংস্কার ও আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব্যাংক খাতও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতার বিষয়েও আলাদা মূল্যায়ন হবে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা, বিদ্যমান বেতনকাঠামো, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির নীতি ও বিভিন্ন ভাতার আর্থিক প্রভাব নিয়ে তথ্য চাইবে সংস্থাটি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে পৃথক পর্যালোচনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বিদ্যুতের দাম সমন্বয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকি, পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তা ও পুরো জ্বালানি খাতের আর্থিক প্রবাহও পর্যালোচনায় থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বৈঠকের মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সরকারও সাম্প্রতিক কিছু অগ্রগতি তুলে ধরবে।

ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সদর দপ্তরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পরাশক্তিগুলো এখন নিজেদের সীমা বুঝতে শুরু করেছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

২৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ নিয়ে বৈঠক শুরু কাল, আলোচনা হবে নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে

আপডেটের সময় : ০৪:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১২ সদস্যের মিশন। মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশনের প্রধান ইভো ক্রজনার।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। আলোচনার অংশ হিসেবে সচিবালয়ে আগামীকাল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে তাদের। এসব বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া ও অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতি সূচকগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি, কর–ব্যয়ের সংস্কার ও আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব্যাংক খাতও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতার বিষয়েও আলাদা মূল্যায়ন হবে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা, বিদ্যমান বেতনকাঠামো, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির নীতি ও বিভিন্ন ভাতার আর্থিক প্রভাব নিয়ে তথ্য চাইবে সংস্থাটি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে পৃথক পর্যালোচনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বিদ্যুতের দাম সমন্বয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকি, পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তা ও পুরো জ্বালানি খাতের আর্থিক প্রবাহও পর্যালোচনায় থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বৈঠকের মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সরকারও সাম্প্রতিক কিছু অগ্রগতি তুলে ধরবে।

ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সদর দপ্তরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

Share this news as a Photo Card