নিউইয়র্ক ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা ম্যাচের ঘটনায় মিশরের বিরুদ্ধে ফিফার ব্যবস্থা

  • আপডেটের সময় : ০৭:১৪:০২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও থামেনি আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের রেশ। সেই ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং এখনও বেশি আলোচনায়। ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান, ও দলের ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। এবার তাদের সেই বক্তব্যের জেরেই শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট গোল ডটকম। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোসাম, ইব্রাহিম ও জিকোর বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে তাদের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইএফএ জানিয়েছে, ফিফার নেওয়া এই পদক্ষেপ তারা পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে জাতীয় দলের কোচ, ম্যানেজার ও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া কার্যক্রমের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে তারা।

গত ৭ জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনা ও মিশরের সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। শেষ ১৪ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।

তবে হারের পর মিশরের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। তার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন মিশরের কোচ ও ফুটবলাররা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন জিকো। ম্যাচে একটি গোল করার পর উদযাপনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেয়ায় সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। পরে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে জিকো ও মিশরের অন্য সদস্যরা বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসানের সঙ্গে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মাঠের সেই উত্তেজনার রেশ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা করেন মিশরীয় সমর্থকেরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে একপর্যায়ে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন ফরাসি এই রেফারি।

শুধু রেফারিকে ঘিরেই থামেনি বিতর্ক। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের দাবি, মিশরীয় সমর্থকেরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি বিতর্কিত ই-মেইলও পাঠিয়েছিল। এতে ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আর্জেন্টিনা ম্যাচের ঘটনায় মিশরের বিরুদ্ধে ফিফার ব্যবস্থা

আপডেটের সময় : ০৭:১৪:০২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও থামেনি আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের রেশ। সেই ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং এখনও বেশি আলোচনায়। ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান, ও দলের ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। এবার তাদের সেই বক্তব্যের জেরেই শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট গোল ডটকম। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোসাম, ইব্রাহিম ও জিকোর বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে তাদের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইএফএ জানিয়েছে, ফিফার নেওয়া এই পদক্ষেপ তারা পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে জাতীয় দলের কোচ, ম্যানেজার ও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া কার্যক্রমের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে তারা।

গত ৭ জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনা ও মিশরের সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। শেষ ১৪ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।

তবে হারের পর মিশরের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। তার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন মিশরের কোচ ও ফুটবলাররা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন জিকো। ম্যাচে একটি গোল করার পর উদযাপনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেয়ায় সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। পরে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে জিকো ও মিশরের অন্য সদস্যরা বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসানের সঙ্গে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মাঠের সেই উত্তেজনার রেশ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা করেন মিশরীয় সমর্থকেরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে একপর্যায়ে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন ফরাসি এই রেফারি।

শুধু রেফারিকে ঘিরেই থামেনি বিতর্ক। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের দাবি, মিশরীয় সমর্থকেরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি বিতর্কিত ই-মেইলও পাঠিয়েছিল। এতে ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

Share this news as a Photo Card