নিউইয়র্ক ১১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউটিউব থেকে আয় করতে নতুনদের লাগবে দ্বিগুণ দর্শক বা ওয়াচ টাইম

  • আপডেটের সময় : ০৫:০০:০৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ২২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য ইউটিউবের আয় করার পথ আরও কঠিন হচ্ছে। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্ল্যাটফর্মটিতে নতুন নিয়ম চালু হবে। এর ফলে বিজ্ঞাপন ও ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে আয় পেতে আগের চেয়ে দ্বিগুণ দর্শক বা ওয়াচ টাইম প্রয়োজন হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনের আয় পেতে গত এক বছরে অন্তত ৮ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখার সময় থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে গত ৯০ দিনে ২ কোটি যোগ্য শর্টস ভিডিও ভিউ থাকতে হবে। বর্তমানে এই সীমা ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম এবং ৯০ দিনে ১ কোটি শর্টস ভিউ। সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা অন্তত ১ হাজার থাকার শর্তও বহাল থাকবে।

ইউটিউবের নতুন নিয়মের আওতায় মনিটাইজেশন থাকা নির্মাতারাও পড়ছেন। শর্টস থেকে প্রতি মাসে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন বাবদ আয় চালু রাখতে হলে ৯০ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১ কোটি যোগ্য ভিউ অর্জন করতে হবে। ভিউ নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেলে শর্টসের আয় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে চ্যানেলের মনিটাইজেশন সুবিধা বহাল থাকবে। পরে আবার প্রয়োজনীয় ভিউ পূরণ করতে পারলে শর্টস থেকে আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় চালু হবে।

ইউটিউব জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে শর্টস থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন, তাদের ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে কতগুলো চ্যানেল নতুন নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, সে সংখ্যা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে প্ল্যাটফর্মটি। বিশেষ করে ছোট ভিডিও বা শর্টসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ইউটিউবে ২০ হাজার কোটির বেশি শর্টস দেখা হয়। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি।

ছোট নির্মাতাদের জন্যও কিছু সুবিধা রাখছে ইউটিউব। ইউটিউব শপিং, ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ এবং জনপ্রিয় নতুন ধারা তৈরির জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব সুবিধার অর্থের পরিমাণ ও বিস্তারিত নিয়ম এখনো জানানো হয়নি।

তবে কম স্তরের মনিটাইজেশনের শর্তে পরিবর্তন আসছে না। ৫০০ গ্রাহক, ৯০ দিনে অন্তত তিনটি প্রকাশিত ভিডিও এবং ৩ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখার সময় বা ৩০ লাখ শর্টস ভিউ থাকলে নির্মাতারা এই কর্মসূচির প্রাথমিক স্তরে যুক্ত হতে পারবেন। তবে এই স্তরে বিজ্ঞাপন বা ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে আয় করা যাবে না।

ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট নিয়েও নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব দেশে ইউটিউব প্রিমিয়াম চালু আছে সেসব দেশে প্রিমিয়াম লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউটিউব। এই সেবার গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন আয়ের একটি অংশ নির্মাতাদের জন্য রাখা হবে।

ইউটিউব জানিয়েছে, প্রিমিয়াম লাইট থেকে পাওয়া নিট সাবস্ক্রিপশন আয়ের ৬০ শতাংশ নির্মাতাদের জন্য নির্ধারিত তহবিলে বরাদ্দ করা হবে। অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ ইউটিউব প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। দর্শকেরা কোন নির্মাতার ভিডিও কত সময় দেখছেন, তার ভিত্তিতেই এই অর্থ বণ্টন করা হবে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইউটিউবের আয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে শর্টসনির্ভর নির্মাতাদের নিয়মিত ভিউ ধরে রাখার চাপ বাড়বে। তবে একই সঙ্গে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরির কথাও জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। সব মিলিয়ে ২০২৭ সাল ইউটিউব নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইউটিউব থেকে আয় করতে নতুনদের লাগবে দ্বিগুণ দর্শক বা ওয়াচ টাইম

আপডেটের সময় : ০৫:০০:০৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য ইউটিউবের আয় করার পথ আরও কঠিন হচ্ছে। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্ল্যাটফর্মটিতে নতুন নিয়ম চালু হবে। এর ফলে বিজ্ঞাপন ও ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে আয় পেতে আগের চেয়ে দ্বিগুণ দর্শক বা ওয়াচ টাইম প্রয়োজন হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনের আয় পেতে গত এক বছরে অন্তত ৮ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখার সময় থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে গত ৯০ দিনে ২ কোটি যোগ্য শর্টস ভিডিও ভিউ থাকতে হবে। বর্তমানে এই সীমা ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম এবং ৯০ দিনে ১ কোটি শর্টস ভিউ। সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা অন্তত ১ হাজার থাকার শর্তও বহাল থাকবে।

ইউটিউবের নতুন নিয়মের আওতায় মনিটাইজেশন থাকা নির্মাতারাও পড়ছেন। শর্টস থেকে প্রতি মাসে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন বাবদ আয় চালু রাখতে হলে ৯০ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১ কোটি যোগ্য ভিউ অর্জন করতে হবে। ভিউ নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেলে শর্টসের আয় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে চ্যানেলের মনিটাইজেশন সুবিধা বহাল থাকবে। পরে আবার প্রয়োজনীয় ভিউ পূরণ করতে পারলে শর্টস থেকে আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় চালু হবে।

ইউটিউব জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে শর্টস থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন, তাদের ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে কতগুলো চ্যানেল নতুন নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, সে সংখ্যা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে প্ল্যাটফর্মটি। বিশেষ করে ছোট ভিডিও বা শর্টসের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ইউটিউবে ২০ হাজার কোটির বেশি শর্টস দেখা হয়। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি।

ছোট নির্মাতাদের জন্যও কিছু সুবিধা রাখছে ইউটিউব। ইউটিউব শপিং, ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ এবং জনপ্রিয় নতুন ধারা তৈরির জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব সুবিধার অর্থের পরিমাণ ও বিস্তারিত নিয়ম এখনো জানানো হয়নি।

তবে কম স্তরের মনিটাইজেশনের শর্তে পরিবর্তন আসছে না। ৫০০ গ্রাহক, ৯০ দিনে অন্তত তিনটি প্রকাশিত ভিডিও এবং ৩ হাজার ঘণ্টা ভিডিও দেখার সময় বা ৩০ লাখ শর্টস ভিউ থাকলে নির্মাতারা এই কর্মসূচির প্রাথমিক স্তরে যুক্ত হতে পারবেন। তবে এই স্তরে বিজ্ঞাপন বা ইউটিউব প্রিমিয়াম থেকে আয় করা যাবে না।

ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট নিয়েও নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব দেশে ইউটিউব প্রিমিয়াম চালু আছে সেসব দেশে প্রিমিয়াম লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউটিউব। এই সেবার গ্রাহকদের সাবস্ক্রিপশন আয়ের একটি অংশ নির্মাতাদের জন্য রাখা হবে।

ইউটিউব জানিয়েছে, প্রিমিয়াম লাইট থেকে পাওয়া নিট সাবস্ক্রিপশন আয়ের ৬০ শতাংশ নির্মাতাদের জন্য নির্ধারিত তহবিলে বরাদ্দ করা হবে। অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ ইউটিউব প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। দর্শকেরা কোন নির্মাতার ভিডিও কত সময় দেখছেন, তার ভিত্তিতেই এই অর্থ বণ্টন করা হবে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইউটিউবের আয় ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে শর্টসনির্ভর নির্মাতাদের নিয়মিত ভিউ ধরে রাখার চাপ বাড়বে। তবে একই সঙ্গে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরির কথাও জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। সব মিলিয়ে ২০২৭ সাল ইউটিউব নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Share this news as a Photo Card