নিউইয়র্ক ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবুজ রঙের শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

  • আপডেটের সময় : ০১:৩৭:৪৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যেটিকে মানুষের চোখে সবুজ দেখাতে পারে। একই গবেষণায় স্যামন মাছের মতো গোলাপি রঙের আরেকটি নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্যও উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, নক্ষত্রগুলোর বর্ণালী বিশ্লেষণ করে এমন ব্যতিক্রমী রঙের কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় শ্বেত বামন নক্ষত্রের রঙ ও রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গবেষণাসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সাধারণত নক্ষত্রের রং নির্ভর করে তার তাপমাত্রার ওপর। এ কারণে অধিকাংশ নক্ষত্রকে কমলা, সাদা কিংবা নীল রঙের দেখা যায়। তবে সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘন অবশিষ্টাংশ শ্বেত বামনগুলোর ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়। এসব নক্ষত্রের বাইরের স্তরে সংঘটিত ভৌত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া তাদের আলোর বর্ণালীতে পরিবর্তন আনতে পারে।

মার্ক হল্যান্ডস জানান, শ্বেত বামন নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়া তাদের রঙের ভিন্নতার একটি কারণ। নক্ষত্রগুলো অতীতে যেসব পদার্থের সংস্পর্শে এসেছে, তার ওপর ভিত্তি করে এসব উপাদানের উপস্থিতি ও পরিমাণেও পার্থক্য দেখা যায়।

গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে মিলছে রাসায়নিক উপাদানের তথ্য

শ্বেত বামন নক্ষত্রের চারপাশে থাকা গ্রহাণু বা পাথুরে মহাজাগতিক বস্তু কখনো নক্ষত্রটির খুব কাছাকাছি চলে এলে মহাকর্ষীয় প্রভাবে ভেঙে যেতে পারে। পরে সেসব বস্তুর ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হয়। এসব ধ্বংসাবশেষে লোহা, ম্যাগনেশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো উপাদান থাকতে পারে।

হল্যান্ডসের মতে, নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হওয়া এসব উপাদান বিশ্লেষণ করে একসময় তার কাছাকাছি থাকা গ্রহাণু বা পাথুরে বস্তুর রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এভাবে শ্বেত বামন নক্ষত্রকে কাজে লাগিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের উপাদান শনাক্ত করা সম্ভব।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বারগাসার বলেন, শ্বেত বামন নক্ষত্রের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের অভ্যন্তরে কী ধরনের উপাদান ছিল এবং সেগুলোর অনুপাত কেমন ছিল, তা জানা সম্ভব। এসব তথ্য থেকে গ্রহের গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়।

বিষয়টিকে অপরাধস্থলে পড়ে থাকা আলামত সংগ্রহের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। তাঁর মতে, ধ্বংসাবশেষের রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অতীতে কোনো গ্রহের গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ

গবেষণার অংশ হিসেবে পৃথিবী থেকে ২০ পারসেক বা প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি পরিচিত শ্বেত বামন নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করেন হল্যান্ডস। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী সবুজ রঙের নক্ষত্রটিতে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের মতো উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া অধ্যাপক বারগাসার বলেন, নক্ষত্রটিতে এত বেশি পরিমাণ উপাদান কীভাবে জমা হয়েছে, তা জানার বিষয়টি তাঁর আগ্রহ বাড়িয়েছে। এ ধরনের গবেষণা মহাবিশ্বের ব্যতিক্রমী বস্তুগুলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কৌতূহলও বাড়াতে পারে।

তালিকার আরেকটি নক্ষত্রের রং ছিল স্যামন মাছের মতো গোলাপি। হল্যান্ডসের ভাষ্য অনুযায়ী, নক্ষত্রটিতে কার্বন অণুর উচ্চ ঘনত্বের সঙ্গে এই রঙের সম্পর্ক রয়েছে।

বর্ণালী বিশ্লেষণে নির্ধারণ করা হয়েছে রং

শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলো এতটাই দূরে অবস্থিত যে পৃথিবী থেকে সরাসরি খালি চোখে সেগুলো দেখা যায় না। তাই নক্ষত্রগুলোর বর্ণালীসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রং নির্ধারণ করেছেন গবেষকেরা।

সূর্যের আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে যেমন বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়, তেমনি নক্ষত্রের আলোকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে একটি বর্ণালী পাওয়া যায়। এই বর্ণালী থেকে নক্ষত্রের রাসায়নিক গঠনসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

গবেষণাসংশ্লিষ্ট নন, পেন স্টেট স্ক্র্যান্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাগনেস কিম বলেন, সবুজ নক্ষত্র নিয়ে এই গবেষণা নতুন কোনো বড় আবিষ্কার না হলেও শ্বেত বামনকে বোঝার ক্ষেত্রে এটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

বর্ণালী থেকে নির্ধারিত রং মানুষের চোখে কেমন দেখাতে পারে, তা বিশ্লেষণ করাকে পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের সংযোগস্থল হিসেবে দেখেন তিনি। তাঁর মতে, নক্ষত্রগুলো পৃথিবীর কাছাকাছি থাকলে কিছু নক্ষত্রকে সবুজ এবং অন্য কয়েকটিকে গোলাপি দেখা যেতে পারত।

অধ্যাপক বারগাসারের মতে, তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নক্ষত্রগুলোর এমন শ্রেণিবিন্যাস ভবিষ্যৎ গবেষণায় কাজে আসতে পারে। এতে বিভিন্ন নক্ষত্রের রং, রাসায়নিক গঠন এবং তাদের মধ্যকার সম্ভাব্য সম্পর্ক বোঝা সহজ হবে।

 আরও শ্বেত বামন নক্ষত্র বিশ্লেষণের পরিকল্পনা

ভবিষ্যতে আরও বেশি শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালী বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে হল্যান্ডসের। নতুন প্রযুক্তি ও বর্ণালীবীক্ষণ জরিপের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে আরও দূরের নক্ষত্র সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

হল্যান্ডস জানান, অনেক শ্বেত বামন নক্ষত্র সম্পর্কে জানা থাকলেও সেগুলোর বর্ণালীসংক্রান্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নতুন জরিপগুলো থেকে তথ্য আসতে শুরু করলে বর্ণালী বিশ্লেষণের জন্য পাওয়া নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে।

এতে বর্তমানে শনাক্ত করা এক বা দুটি সবুজ শ্বেত বামন নক্ষত্রের বদলে ভবিষ্যতে ১০ থেকে ২০টি এমন নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এলপিজি ও জেট ফুয়েল রপ্তানি করছে ইরান

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

১৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবুজ রঙের শ্বেত বামন নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

আপডেটের সময় : ০১:৩৭:৪৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মহাকাশে শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যেটিকে মানুষের চোখে সবুজ দেখাতে পারে। একই গবেষণায় স্যামন মাছের মতো গোলাপি রঙের আরেকটি নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্যও উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, নক্ষত্রগুলোর বর্ণালী বিশ্লেষণ করে এমন ব্যতিক্রমী রঙের কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় শ্বেত বামন নক্ষত্রের রঙ ও রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গবেষণাসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সাধারণত নক্ষত্রের রং নির্ভর করে তার তাপমাত্রার ওপর। এ কারণে অধিকাংশ নক্ষত্রকে কমলা, সাদা কিংবা নীল রঙের দেখা যায়। তবে সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘন অবশিষ্টাংশ শ্বেত বামনগুলোর ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়। এসব নক্ষত্রের বাইরের স্তরে সংঘটিত ভৌত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া তাদের আলোর বর্ণালীতে পরিবর্তন আনতে পারে।

মার্ক হল্যান্ডস জানান, শ্বেত বামন নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়া তাদের রঙের ভিন্নতার একটি কারণ। নক্ষত্রগুলো অতীতে যেসব পদার্থের সংস্পর্শে এসেছে, তার ওপর ভিত্তি করে এসব উপাদানের উপস্থিতি ও পরিমাণেও পার্থক্য দেখা যায়।

গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে মিলছে রাসায়নিক উপাদানের তথ্য

শ্বেত বামন নক্ষত্রের চারপাশে থাকা গ্রহাণু বা পাথুরে মহাজাগতিক বস্তু কখনো নক্ষত্রটির খুব কাছাকাছি চলে এলে মহাকর্ষীয় প্রভাবে ভেঙে যেতে পারে। পরে সেসব বস্তুর ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হয়। এসব ধ্বংসাবশেষে লোহা, ম্যাগনেশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো উপাদান থাকতে পারে।

হল্যান্ডসের মতে, নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হওয়া এসব উপাদান বিশ্লেষণ করে একসময় তার কাছাকাছি থাকা গ্রহাণু বা পাথুরে বস্তুর রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এভাবে শ্বেত বামন নক্ষত্রকে কাজে লাগিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের উপাদান শনাক্ত করা সম্ভব।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বারগাসার বলেন, শ্বেত বামন নক্ষত্রের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের অভ্যন্তরে কী ধরনের উপাদান ছিল এবং সেগুলোর অনুপাত কেমন ছিল, তা জানা সম্ভব। এসব তথ্য থেকে গ্রহের গঠনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়।

বিষয়টিকে অপরাধস্থলে পড়ে থাকা আলামত সংগ্রহের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। তাঁর মতে, ধ্বংসাবশেষের রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অতীতে কোনো গ্রহের গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ

গবেষণার অংশ হিসেবে পৃথিবী থেকে ২০ পারসেক বা প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি পরিচিত শ্বেত বামন নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করেন হল্যান্ডস। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী সবুজ রঙের নক্ষত্রটিতে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের মতো উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া অধ্যাপক বারগাসার বলেন, নক্ষত্রটিতে এত বেশি পরিমাণ উপাদান কীভাবে জমা হয়েছে, তা জানার বিষয়টি তাঁর আগ্রহ বাড়িয়েছে। এ ধরনের গবেষণা মহাবিশ্বের ব্যতিক্রমী বস্তুগুলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কৌতূহলও বাড়াতে পারে।

তালিকার আরেকটি নক্ষত্রের রং ছিল স্যামন মাছের মতো গোলাপি। হল্যান্ডসের ভাষ্য অনুযায়ী, নক্ষত্রটিতে কার্বন অণুর উচ্চ ঘনত্বের সঙ্গে এই রঙের সম্পর্ক রয়েছে।

বর্ণালী বিশ্লেষণে নির্ধারণ করা হয়েছে রং

শ্বেত বামন নক্ষত্রগুলো এতটাই দূরে অবস্থিত যে পৃথিবী থেকে সরাসরি খালি চোখে সেগুলো দেখা যায় না। তাই নক্ষত্রগুলোর বর্ণালীসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রং নির্ধারণ করেছেন গবেষকেরা।

সূর্যের আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে যেমন বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়, তেমনি নক্ষত্রের আলোকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে একটি বর্ণালী পাওয়া যায়। এই বর্ণালী থেকে নক্ষত্রের রাসায়নিক গঠনসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

গবেষণাসংশ্লিষ্ট নন, পেন স্টেট স্ক্র্যান্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাগনেস কিম বলেন, সবুজ নক্ষত্র নিয়ে এই গবেষণা নতুন কোনো বড় আবিষ্কার না হলেও শ্বেত বামনকে বোঝার ক্ষেত্রে এটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

বর্ণালী থেকে নির্ধারিত রং মানুষের চোখে কেমন দেখাতে পারে, তা বিশ্লেষণ করাকে পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের সংযোগস্থল হিসেবে দেখেন তিনি। তাঁর মতে, নক্ষত্রগুলো পৃথিবীর কাছাকাছি থাকলে কিছু নক্ষত্রকে সবুজ এবং অন্য কয়েকটিকে গোলাপি দেখা যেতে পারত।

অধ্যাপক বারগাসারের মতে, তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নক্ষত্রগুলোর এমন শ্রেণিবিন্যাস ভবিষ্যৎ গবেষণায় কাজে আসতে পারে। এতে বিভিন্ন নক্ষত্রের রং, রাসায়নিক গঠন এবং তাদের মধ্যকার সম্ভাব্য সম্পর্ক বোঝা সহজ হবে।

 আরও শ্বেত বামন নক্ষত্র বিশ্লেষণের পরিকল্পনা

ভবিষ্যতে আরও বেশি শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালী বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে হল্যান্ডসের। নতুন প্রযুক্তি ও বর্ণালীবীক্ষণ জরিপের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে আরও দূরের নক্ষত্র সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

হল্যান্ডস জানান, অনেক শ্বেত বামন নক্ষত্র সম্পর্কে জানা থাকলেও সেগুলোর বর্ণালীসংক্রান্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নতুন জরিপগুলো থেকে তথ্য আসতে শুরু করলে বর্ণালী বিশ্লেষণের জন্য পাওয়া নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে।

এতে বর্তমানে শনাক্ত করা এক বা দুটি সবুজ শ্বেত বামন নক্ষত্রের বদলে ভবিষ্যতে ১০ থেকে ২০টি এমন নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card