নিউইয়র্ক ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা চীনের

  • আপডেটের সময় : ০১:৩৫:৩৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান ও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের দেওয়া ভাষণে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং বেইজিংয়ের এ অবস্থান তুলে ধরেন। যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।

ভাষণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি তিনি কিউবাকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে এবং দেশটির ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করতে ‘সংশ্লিষ্ট দেশটির’ প্রতি আহ্বান জানান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরানে মার্কিন যুদ্ধ শুরু হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আর কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্র তীব্র চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে তেলের সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের চীনের প্রতিনিধির এমন বক্তব্য চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার সম্পূর্ণ বিপরীত। যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক বিমানের ফ্লাইওভার ও জমকালো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্টকে সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন।

চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং জাতিসংঘে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে পরাশক্তিগুলোর বিশেষ দায়িত্ব থাকা উচিত। নিয়মকানুন মেনে চলা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং সঠিক কাজটি করার ক্ষেত্রে তাদেরই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, চীন মনে করে, পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত।

এর আগে গত শুক্রবার চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ওয়াশিংটনে বৈঠকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চীনের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। জবাবে চীন এমন সাহায্য করবে না বলে আশ্বাসও দিয়েছে।

কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য আকাশসুরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ইরানকে দিয়েছে চীন এবং বেইজিংয়ের সহায়তায় নিজেদের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছে তেহরান—এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ট্রাম্প ওই আহ্বান জানান।

কিউবার বিষয়ে চীনের ভাইস প্রেমিডেন্ট ভাষণে বলেন, চীন সংশ্লিষ্ট দেশটিকে অবিলম্বেই কিউবার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে এবং তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে পুরোপুরি তুলে নেওয়ার জোর আহ্বান জানায়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কিউবার বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরুদ্ধ করার নীতির কারণে পুরো দেশ অন্ধকারে ডুবে যায় এবং লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান তার ভাষণে চীনকে বৈশ্বিক মঞ্চে এক বিশ্বস্ত অংশীদার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর এক দৃঢ় সমর্থক হিসেবেও তুলে ধরেন। হান বলেন, চীন বিশ্বাস করে, ছোট কিংবা বড়—সব দেশই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমান সদস্য এবং বিশ্বের নানা বিষয় সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের একই অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় একই সুর শোনা যায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কণ্ঠেও। তিনি কিউবার ওপর থেকে ‘অবরোধ’ প্রত্যাহার এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বৃহত্তম এই দ্বীপদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান।

লাভরভ আরও বলেন, কিউবাকে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাদ দেওয়া উচিত।

জ্বালানিসংকট ও জরাজীর্ণ কাঠামোর কারণে বছরের পর বছর ধরেই কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার ওপর চরম চাপ যাচ্ছিল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের পর থেকে বিদ্যুৎ–বিভ্রাট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বারবার পুরো বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে থাকে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা চীনের

আপডেটের সময় : ০১:৩৫:৩৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান ও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের দেওয়া ভাষণে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং বেইজিংয়ের এ অবস্থান তুলে ধরেন। যদিও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।

ভাষণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি তিনি কিউবাকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে এবং দেশটির ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করতে ‘সংশ্লিষ্ট দেশটির’ প্রতি আহ্বান জানান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরানে মার্কিন যুদ্ধ শুরু হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আর কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্র তীব্র চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে। এতে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে তেলের সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের চীনের প্রতিনিধির এমন বক্তব্য চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার সম্পূর্ণ বিপরীত। যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক বিমানের ফ্লাইওভার ও জমকালো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্টকে সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন।

চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং জাতিসংঘে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে পরাশক্তিগুলোর বিশেষ দায়িত্ব থাকা উচিত। নিয়মকানুন মেনে চলা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং সঠিক কাজটি করার ক্ষেত্রে তাদেরই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, চীন মনে করে, পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত।

এর আগে গত শুক্রবার চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ওয়াশিংটনে বৈঠকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চীনের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। জবাবে চীন এমন সাহায্য করবে না বলে আশ্বাসও দিয়েছে।

কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য আকাশসুরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ইরানকে দিয়েছে চীন এবং বেইজিংয়ের সহায়তায় নিজেদের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছে তেহরান—এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ট্রাম্প ওই আহ্বান জানান।

কিউবার বিষয়ে চীনের ভাইস প্রেমিডেন্ট ভাষণে বলেন, চীন সংশ্লিষ্ট দেশটিকে অবিলম্বেই কিউবার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে এবং তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে পুরোপুরি তুলে নেওয়ার জোর আহ্বান জানায়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কিউবার বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরুদ্ধ করার নীতির কারণে পুরো দেশ অন্ধকারে ডুবে যায় এবং লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান তার ভাষণে চীনকে বৈশ্বিক মঞ্চে এক বিশ্বস্ত অংশীদার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর এক দৃঢ় সমর্থক হিসেবেও তুলে ধরেন। হান বলেন, চীন বিশ্বাস করে, ছোট কিংবা বড়—সব দেশই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমান সদস্য এবং বিশ্বের নানা বিষয় সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের একই অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় একই সুর শোনা যায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কণ্ঠেও। তিনি কিউবার ওপর থেকে ‘অবরোধ’ প্রত্যাহার এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বৃহত্তম এই দ্বীপদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান।

লাভরভ আরও বলেন, কিউবাকে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাদ দেওয়া উচিত।

জ্বালানিসংকট ও জরাজীর্ণ কাঠামোর কারণে বছরের পর বছর ধরেই কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার ওপর চরম চাপ যাচ্ছিল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের পর থেকে বিদ্যুৎ–বিভ্রাট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বারবার পুরো বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে থাকে।

Share this news as a Photo Card