নিউইয়র্ক ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ওপর হামলা চালাতে ‘১০ মিনিট সময় লাগবে’: ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ১২:২৩:৩১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে এখনও একটি বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন হামলার বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করার পর তিনি একথা বলেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফ্লোরিডার বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছি। আমাদের এখনও একটি বা দুটি স্থান নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে, তবে আমরা তা ১০ মিনিটের মধ্যেই করতে পারি।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত একটি স্থানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আপনি হয়তো পিকঅ্যাক্স পর্বতের দিকে তাকাতে পারেন এবং সেটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এগুলোর সবই খুব দ্রুত করতে পারি।’

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আক্রমণ পরিচালনা করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি কেন এমন বোকামি প্রশ্ন করছেন? ধরুন আমি যদি করিও—তবে কি আমি আপনাকে বলব?’ তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ঠিকঠাক চলছে কিন্তু আপনারা জানেন তারা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যার আগে মোজতবা খামেনি সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানান, যেকোনো হুমকির ‘অবিলম্বে’ জবাব দেওয়া হবে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যেকোনো পর্যায়ের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক, প্রভাবশালী ও ভৌগোলিকভাবে সীমাহীন প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।’

মোজতবা খামেনি কমান্ডারদের ‘আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুর সমস্ত দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করে লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। এটিই সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকের প্রতিবেদন।

আগামী সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প নতুন সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আরেকটি ছোট এপিক ফিউরি করতে পারি।’ দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য ওয়াশিংটন কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি চাই তবে সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারি।’ তবে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে তিনি নিশ্চিত করেন এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেন।

উল্লেখ্য চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, যার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলেও ৮ জুলাই ট্রাম্প চুক্তিটি শেষ বলে ঘোষণা দেন। অন্যদিকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দিল্লির ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে কাজের নির্দেশ

এপিস্টাইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

০১ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানের ওপর হামলা চালাতে ‘১০ মিনিট সময় লাগবে’: ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ১২:২৩:৩১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ইরানে এখনও একটি বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন হামলার বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করার পর তিনি একথা বলেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফ্লোরিডার বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছি। আমাদের এখনও একটি বা দুটি স্থান নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে, তবে আমরা তা ১০ মিনিটের মধ্যেই করতে পারি।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত একটি স্থানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আপনি হয়তো পিকঅ্যাক্স পর্বতের দিকে তাকাতে পারেন এবং সেটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এগুলোর সবই খুব দ্রুত করতে পারি।’

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আক্রমণ পরিচালনা করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি কেন এমন বোকামি প্রশ্ন করছেন? ধরুন আমি যদি করিও—তবে কি আমি আপনাকে বলব?’ তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ঠিকঠাক চলছে কিন্তু আপনারা জানেন তারা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যার আগে মোজতবা খামেনি সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানান, যেকোনো হুমকির ‘অবিলম্বে’ জবাব দেওয়া হবে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যেকোনো পর্যায়ের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক, প্রভাবশালী ও ভৌগোলিকভাবে সীমাহীন প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।’

মোজতবা খামেনি কমান্ডারদের ‘আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুর সমস্ত দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করে লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। এটিই সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকের প্রতিবেদন।

আগামী সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প নতুন সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আরেকটি ছোট এপিক ফিউরি করতে পারি।’ দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য ওয়াশিংটন কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি চাই তবে সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারি।’ তবে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে তিনি নিশ্চিত করেন এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেন।

উল্লেখ্য চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, যার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলেও ৮ জুলাই ট্রাম্প চুক্তিটি শেষ বলে ঘোষণা দেন। অন্যদিকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card