নিউইয়র্ক ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এপিস্টাইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ১২:২২:১৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকৃত বিদ্বেষের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১ হাজার কোটি ডলারের মানহানির মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ডিস্ট্রিক্ট বিচারক। মিডিয়া মুঘল রুপার্ট মারডক এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এই মামলাটি করেছিলেন। 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।

শনিবার প্রদত্ত আদেশে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ড্যারিন গেইলস মন্তব্য করেন, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ১ হাজার কোটি ডলারের মামলাটি নিয়ে ট্রাম্প ‘খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন’।

মামলাটি খারিজের ব্যাখ্যায় বিচারক গেইলস লেখেন, ‘সংশোধিত অভিযোগটি প্রকৃত বিদ্বেষের দাবি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

বিচারক গেইলস তার রায়ে আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বিদ্বেষ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সিদ্ধান্তমূলক, অস্পষ্ট, কখনো কখনো অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বিবাদীরা অনুচ্ছেদের বক্তব্যগুলো মিথ্যা হিসেবে জানতেন নাকি তাদের জানা উচিত ছিল তার সঙ্গে প্রায়শই অপ্রাসঙ্গিক।’ তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, ট্রাম্পের আইনজীবীরা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত অনুসন্ধানের মধ্য থেকে ‘ত্রুটি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন’।

প্রয়াত কঙ্কিত যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপিস্টাইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের খবর প্রকাশের জের ধরে এই আইনি বিরোধ শুরু হয়। ১৭ জুলাই ২০২৫-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ২০০৩ সালে এপিস্টাইনের ৫০তম জন্মদিনে তাকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সামাজিক ব্যক্তিত্ব গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল এসব চিঠি সংগ্রহ করেছিলেন, যিনি এপিস্টাইনের যৌন পাচার চক্রে সহায়তার জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

ট্রাম্পের নামে থাকা সেই নোটে টাইপ করা বার্তার চারপাশে নারীদেহের নকশা আঁকা ছিল এবং নিচের অংশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছিল। তবে ট্রাম্প এই লেখা, স্বাক্ষর কিংবা নকশার দায় অস্বীকার করেন এবং প্রতিবেদনটিকে ‘মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর’ আখ্যা দিয়ে ১৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে মিয়ামির ফেডারেল আদালতে মামলা করেন।

প্রতিবেদনের কারণে নিজের চরম আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতি হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প মামলাটি করেছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে বিচারক গেইলস মানহানির মামলাটি প্রথমবার খারিজ করলেও ট্রাম্পকে পুনরায় অভিযোগ পেশের সুযোগ দেন, যা তিনি মে মাসে দাখিল করেন। তবে শনিবারের চূড়ান্ত রায়ে মামলাটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই বিষয়ে পুনরায় মামলা করার পথ বন্ধ হয়ে গেল।

উল্লেখ্য ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নের জন্য ১৩ মাসের কারাদণ্ড পাওয়া এপিস্টাইন ২০১৯ সালে মানব পাচারের বিচারে আটক থাকা অবস্থায় নিউ ইয়র্কের কারাগারে মারা যান, যা পরে আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে ২০০৫ সালে মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে নারী কর্মীদের এপিস্টাইন সরিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। বর্তমানে বিবিসি এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধেও ট্রাম্পের মানহানির মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দিল্লির ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে কাজের নির্দেশ

এপিস্টাইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

০১ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এপিস্টাইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ১২:২২:১৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকৃত বিদ্বেষের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১ হাজার কোটি ডলারের মানহানির মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ডিস্ট্রিক্ট বিচারক। মিডিয়া মুঘল রুপার্ট মারডক এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এই মামলাটি করেছিলেন। 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।

শনিবার প্রদত্ত আদেশে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ড্যারিন গেইলস মন্তব্য করেন, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ১ হাজার কোটি ডলারের মামলাটি নিয়ে ট্রাম্প ‘খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন’।

মামলাটি খারিজের ব্যাখ্যায় বিচারক গেইলস লেখেন, ‘সংশোধিত অভিযোগটি প্রকৃত বিদ্বেষের দাবি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

বিচারক গেইলস তার রায়ে আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বিদ্বেষ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সিদ্ধান্তমূলক, অস্পষ্ট, কখনো কখনো অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বিবাদীরা অনুচ্ছেদের বক্তব্যগুলো মিথ্যা হিসেবে জানতেন নাকি তাদের জানা উচিত ছিল তার সঙ্গে প্রায়শই অপ্রাসঙ্গিক।’ তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, ট্রাম্পের আইনজীবীরা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত অনুসন্ধানের মধ্য থেকে ‘ত্রুটি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন’।

প্রয়াত কঙ্কিত যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপিস্টাইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের খবর প্রকাশের জের ধরে এই আইনি বিরোধ শুরু হয়। ১৭ জুলাই ২০২৫-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ২০০৩ সালে এপিস্টাইনের ৫০তম জন্মদিনে তাকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সামাজিক ব্যক্তিত্ব গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল এসব চিঠি সংগ্রহ করেছিলেন, যিনি এপিস্টাইনের যৌন পাচার চক্রে সহায়তার জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

ট্রাম্পের নামে থাকা সেই নোটে টাইপ করা বার্তার চারপাশে নারীদেহের নকশা আঁকা ছিল এবং নিচের অংশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছিল। তবে ট্রাম্প এই লেখা, স্বাক্ষর কিংবা নকশার দায় অস্বীকার করেন এবং প্রতিবেদনটিকে ‘মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর’ আখ্যা দিয়ে ১৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে মিয়ামির ফেডারেল আদালতে মামলা করেন।

প্রতিবেদনের কারণে নিজের চরম আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতি হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প মামলাটি করেছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে বিচারক গেইলস মানহানির মামলাটি প্রথমবার খারিজ করলেও ট্রাম্পকে পুনরায় অভিযোগ পেশের সুযোগ দেন, যা তিনি মে মাসে দাখিল করেন। তবে শনিবারের চূড়ান্ত রায়ে মামলাটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই বিষয়ে পুনরায় মামলা করার পথ বন্ধ হয়ে গেল।

উল্লেখ্য ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নের জন্য ১৩ মাসের কারাদণ্ড পাওয়া এপিস্টাইন ২০১৯ সালে মানব পাচারের বিচারে আটক থাকা অবস্থায় নিউ ইয়র্কের কারাগারে মারা যান, যা পরে আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে ২০০৫ সালে মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে নারী কর্মীদের এপিস্টাইন সরিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। বর্তমানে বিবিসি এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধেও ট্রাম্পের মানহানির মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card