নিউইয়র্ক ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

  • আপডেটের সময় : ১২:৪৮:৫২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভাব্য এ অভিযানে ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সাত দিনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশকে নতুন করে সামরিক অভিযান এবং এর জবাবে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াল জামির।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন। গত ২০ অক্টোবর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযান সম্পন্ন করার অর্থ হলো ইরানের নেতৃত্বের পতন ঘটানো। দেশটির সরকার পরিবর্তনকে ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান নেতানিয়াহু। তবে ওয়াশিংটন এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত সংযম প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। কাতার তেহরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে পেন্টাগন। এর অংশ হিসেবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী এবং মেরিন সেনা বহনকারী উভচর অবতরণকারী যুদ্ধজাহাজ আরব উপসাগরের দিকে পাঠানো হয়েছে।

এপির তথ্য অনুযায়ী, এ মোতায়েনে প্রায় ৯ হাজার সামরিক সদস্য রয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও মেরিন সেনার মোট উপস্থিতি ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের সহায়তায় থাকবে কয়েকশ সামরিক উড়োজাহাজ।

এদিকে, পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের অধীনে কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণবিষয়ক দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো কারণ জানানো হয়নি। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

সূত্র: গালফ নিউজ

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সরকার গড়তে আরব দলগুলোর সমর্থন লাগবে নেতানিয়াহু ও গাদির

হরমুজে মাইনের আঘাতে ৪ তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

৩০ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আপডেটের সময় : ১২:৪৮:৫২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সম্ভাব্য এ অভিযানে ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সাত দিনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশকে নতুন করে সামরিক অভিযান এবং এর জবাবে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াল জামির।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন। গত ২০ অক্টোবর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযান সম্পন্ন করার অর্থ হলো ইরানের নেতৃত্বের পতন ঘটানো। দেশটির সরকার পরিবর্তনকে ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান নেতানিয়াহু। তবে ওয়াশিংটন এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত সংযম প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। কাতার তেহরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে পেন্টাগন। এর অংশ হিসেবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী এবং মেরিন সেনা বহনকারী উভচর অবতরণকারী যুদ্ধজাহাজ আরব উপসাগরের দিকে পাঠানো হয়েছে।

এপির তথ্য অনুযায়ী, এ মোতায়েনে প্রায় ৯ হাজার সামরিক সদস্য রয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও মেরিন সেনার মোট উপস্থিতি ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের সহায়তায় থাকবে কয়েকশ সামরিক উড়োজাহাজ।

এদিকে, পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের অধীনে কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণবিষয়ক দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো কারণ জানানো হয়নি। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

সূত্র: গালফ নিউজ

Share this news as a Photo Card