নিউইয়র্ক ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামপুরে ১২৮ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

  • আপডেটের সময় : ০১:১৭:৩৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে জনবলসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টির নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি ৫৬ জন সহকারী শিক্ষক এবং তিনটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও), একজন উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহকারী পদ খালি রয়েছে। শিক্ষকসংকট, তদারকির অভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন ঝরে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকট থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুরে মোট ১৭৭টি সরকারি এবং বেসরকারি, কেজিসহ ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি সরাসরি সরকারি এবং ৯৮টি নিবন্ধিত বিদ্যালয় পর্যায়ক্রমে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২৮৫টি বিদ্যালয়ের ৫১ হাজার ৮৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদ ৯৩৬টি স্থলে ৮৮০ জন কর্মরত থাকলেও ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে। ১৭৭টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে মাত্র ৪৮ জন কর্মরত রয়েছেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে ১২৮টি বিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজস্ব খাতে অন্তর্গত ২৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের কাউকে চলতি দায়িত্ব এবং কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থাকায় নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের ৫৬টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকসংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সহকর্মীরা যথাযথভাবে মানতে চান না। আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়েন। সংকট নিরসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন।

অভিভাবক রিপন মিয়া বলেন, উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শিক্ষার্থীর উপস্থিতির বিষয়ে বীর সিংহ সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুন বলেন, আশপাশে একাধিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাদ্রাসাতে ভর্তি করাচ্ছেন। যারা স্কুলে আসে টিফিনের সময় বাড়িতে গেলে আর আসতে চায় না, অভিভাবকদের কারণে শিক্ষার্থীরা দিনদিন স্কুলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বর্ণজীব দেব বলেন, আমি সবে যোগদান করেছি। বিভিন্ন অনিয়ম খোঁজখবর রাখছি। তবে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইসলামপুরে ১২৮ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

আপডেটের সময় : ০১:১৭:৩৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে জনবলসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টির নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি ৫৬ জন সহকারী শিক্ষক এবং তিনটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও), একজন উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহকারী পদ খালি রয়েছে। শিক্ষকসংকট, তদারকির অভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন ঝরে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকট থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুরে মোট ১৭৭টি সরকারি এবং বেসরকারি, কেজিসহ ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি সরাসরি সরকারি এবং ৯৮টি নিবন্ধিত বিদ্যালয় পর্যায়ক্রমে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২৮৫টি বিদ্যালয়ের ৫১ হাজার ৮৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদ ৯৩৬টি স্থলে ৮৮০ জন কর্মরত থাকলেও ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে। ১৭৭টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে মাত্র ৪৮ জন কর্মরত রয়েছেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে ১২৮টি বিদ্যালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজস্ব খাতে অন্তর্গত ২৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের কাউকে চলতি দায়িত্ব এবং কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থাকায় নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের ৫৬টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকসংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সহকর্মীরা যথাযথভাবে মানতে চান না। আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়েন। সংকট নিরসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন।

অভিভাবক রিপন মিয়া বলেন, উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শিক্ষার্থীর উপস্থিতির বিষয়ে বীর সিংহ সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুন বলেন, আশপাশে একাধিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাদ্রাসাতে ভর্তি করাচ্ছেন। যারা স্কুলে আসে টিফিনের সময় বাড়িতে গেলে আর আসতে চায় না, অভিভাবকদের কারণে শিক্ষার্থীরা দিনদিন স্কুলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বর্ণজীব দেব বলেন, আমি সবে যোগদান করেছি। বিভিন্ন অনিয়ম খোঁজখবর রাখছি। তবে ১৭৭টি সরকারি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card