নিউইয়র্ক ১২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘এটাই রাজনৈতিক যাত্রার শেষ’, বিদায়ী ভাষণে স্টারমার

  • আপডেটের সময় : ০৮:৩১:৩৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হাউস অব কমন্সে নিজের শেষ ‘প্রাইম মিনিস্টারস কোয়েশ্চেনস’ (পিএমকিউ) পর্বে আবেগঘন এক বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। দুই বছরের শাসনকাল শেষে নিজের রাজনৈতিক যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করে তিনি জানিয়েছেন, দেশের দায়িত্বভার নতুন নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসে গেছে। সূচি অনুযায়ী আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়বেন তিনি এবং সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বিদায় নেবেন।

পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার লেবার পার্টিকে ২০১৯ সালের শোচনীয় পরাজয় থেকে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় দেশ এখন অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং নিজের এই দুই বছরের অর্জন নিয়ে তিনি গর্বিত। দলীয় আইনপ্রণেতা ক্যারোলিন হ্যারিসের এক প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। হ্যারিসকে নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজ দল, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্টারমারের বিদায়ের পর যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। নিজের উত্তরসূরির প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে স্টারমার বলেন, নতুন সরকার ও পার্লামেন্টের সব সহকর্মীর পাশে সবসময় থাকবেন তিনি।

এ সময় কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাদেনক নতুন প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন যে, গ্রীষ্মকালীন ছুটির আড়ালে না থেকে তার উচিত পার্লামেন্টে এসে সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া। নতুন এই নেতৃত্ব কোনো ‘জাদুকরি সমাধান’ নয় বলেও মন্তব্য করেন বাদেনক। জবাবে স্টারমার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা এতদিন যেভাবে তাকে কঠিন প্রশ্ন করেছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীকেও তিনি একইভাবে জবাবদিহির আওতায় আনবেন বলে তার বিশ্বাস।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত নিজের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্টারমার। অবহেলিত মানুষ এবং যাদের জীবনমান এই লেবার সরকারের কারণে উন্নত হয়েছে, মূলত তারাই তাকে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে সবার কাছ থেকে বিদায় নেন এই নেতা।

এদিন পার্লামেন্টের অধিবেশনে স্টারমার, বিরোধীদলীয় নেতা বাদেনক এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি সম্প্রতি প্রয়াত সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী অ্যান উইডিকম্বের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে ‘একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে তার অসামান্য জনসেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘এটাই রাজনৈতিক যাত্রার শেষ’, বিদায়ী ভাষণে স্টারমার

আপডেটের সময় : ০৮:৩১:৩৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হাউস অব কমন্সে নিজের শেষ ‘প্রাইম মিনিস্টারস কোয়েশ্চেনস’ (পিএমকিউ) পর্বে আবেগঘন এক বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। দুই বছরের শাসনকাল শেষে নিজের রাজনৈতিক যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করে তিনি জানিয়েছেন, দেশের দায়িত্বভার নতুন নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসে গেছে। সূচি অনুযায়ী আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়বেন তিনি এবং সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বিদায় নেবেন।

পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার লেবার পার্টিকে ২০১৯ সালের শোচনীয় পরাজয় থেকে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় দেশ এখন অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং নিজের এই দুই বছরের অর্জন নিয়ে তিনি গর্বিত। দলীয় আইনপ্রণেতা ক্যারোলিন হ্যারিসের এক প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। হ্যারিসকে নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজ দল, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্টারমারের বিদায়ের পর যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। নিজের উত্তরসূরির প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে স্টারমার বলেন, নতুন সরকার ও পার্লামেন্টের সব সহকর্মীর পাশে সবসময় থাকবেন তিনি।

এ সময় কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাদেনক নতুন প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন যে, গ্রীষ্মকালীন ছুটির আড়ালে না থেকে তার উচিত পার্লামেন্টে এসে সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া। নতুন এই নেতৃত্ব কোনো ‘জাদুকরি সমাধান’ নয় বলেও মন্তব্য করেন বাদেনক। জবাবে স্টারমার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা এতদিন যেভাবে তাকে কঠিন প্রশ্ন করেছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীকেও তিনি একইভাবে জবাবদিহির আওতায় আনবেন বলে তার বিশ্বাস।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত নিজের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্টারমার। অবহেলিত মানুষ এবং যাদের জীবনমান এই লেবার সরকারের কারণে উন্নত হয়েছে, মূলত তারাই তাকে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে সবার কাছ থেকে বিদায় নেন এই নেতা।

এদিন পার্লামেন্টের অধিবেশনে স্টারমার, বিরোধীদলীয় নেতা বাদেনক এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি সম্প্রতি প্রয়াত সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী অ্যান উইডিকম্বের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে ‘একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে তার অসামান্য জনসেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

Share this news as a Photo Card