নিউইয়র্ক ০৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসিতে জামালপুরের চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৮:০১ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ২৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা, সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা।

ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্য তিনজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাই এ ফলাফলকে বিদ্যালয়ের নিয়মিত ব্যাচের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে নয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

একই উপজেলার বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক রয়েছেন।

মাদ্রাসাটির সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও পড়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার বলেন, এখনও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল হাতে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করা হবে।

সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এবার ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

অন্যদিকে, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফলাফলে তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুর আলম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এসএসসিতে জামালপুরের চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

আপডেটের সময় : ০৫:০৮:০১ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

জামালপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা, সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা।

ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্য তিনজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাই এ ফলাফলকে বিদ্যালয়ের নিয়মিত ব্যাচের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে নয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

একই উপজেলার বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক রয়েছেন।

মাদ্রাসাটির সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও পড়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার বলেন, এখনও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল হাতে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করা হবে।

সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এবার ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।

অন্যদিকে, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফলাফলে তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুর আলম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card