নিউইয়র্ক ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ককটেল ফোটালেই ৫ হাজার টাকা, যোগাযোগে ভারতীয় নম্বর: ডিবি

  • আপডেটের সময় : ১২:৩৩:২৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিটি মলোটভ ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভিডিও পাঠালে চক্রের সদস্যদের দেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। এসব অপকর্মের নির্দেশনা আসছে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এই নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন। মাঠপর্যায়ে ককটেল নিক্ষেপের জন্য মাদকাসক্ত ও ভাসমান মানুষদের যেমন ব্যবহার করা হচ্ছে, তেমনি দলীয় পদ-পদবির লোভেও তরুণদের এই অপরাধে যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে ডিবি একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল হামলার ঘটনায় জড়িত বংশাল থানা ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক রায়হান উদ্দিনসহ ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দুনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া গত ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে মোটরসাইকেল ও ককটেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত রায়হান জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশে তারা যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা পরিচিত দোকানদারের মোটরসাইকেল চেয়ে নিয়ে তা ব্যবহার করেছিলেন। বিস্ফোরণের পর ভিডিও করে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠালেই মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যেত।

ডিবি ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন এবং ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধীরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির সতর্ক করে বলেছেন, কেবল ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ হলেই ব্যবহারকারী ভারতে অবস্থান করছেন এমনটি নিশ্চিত বলা যায় না; রোমিং সুবিধা বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকেই এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব।

এদিকে, নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত সোমবার রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। তার পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে তথ্যের গরমিল থাকায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে বাস পোড়ানো ও বোমাবাজির সমন্বয়ক ডেমরা থানা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকার কারণেই অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে। নাশকতার মূল নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ককটেল ফোটালেই ৫ হাজার টাকা, যোগাযোগে ভারতীয় নম্বর: ডিবি

আপডেটের সময় : ১২:৩৩:২৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিটি মলোটভ ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভিডিও পাঠালে চক্রের সদস্যদের দেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। এসব অপকর্মের নির্দেশনা আসছে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এই নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন। মাঠপর্যায়ে ককটেল নিক্ষেপের জন্য মাদকাসক্ত ও ভাসমান মানুষদের যেমন ব্যবহার করা হচ্ছে, তেমনি দলীয় পদ-পদবির লোভেও তরুণদের এই অপরাধে যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে ডিবি একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল হামলার ঘটনায় জড়িত বংশাল থানা ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক রায়হান উদ্দিনসহ ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দুনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া গত ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে মোটরসাইকেল ও ককটেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত রায়হান জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশে তারা যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা পরিচিত দোকানদারের মোটরসাইকেল চেয়ে নিয়ে তা ব্যবহার করেছিলেন। বিস্ফোরণের পর ভিডিও করে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠালেই মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যেত।

ডিবি ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন এবং ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধীরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির সতর্ক করে বলেছেন, কেবল ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ হলেই ব্যবহারকারী ভারতে অবস্থান করছেন এমনটি নিশ্চিত বলা যায় না; রোমিং সুবিধা বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকেই এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব।

এদিকে, নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত সোমবার রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। তার পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে তথ্যের গরমিল থাকায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে বাস পোড়ানো ও বোমাবাজির সমন্বয়ক ডেমরা থানা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকার কারণেই অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে। নাশকতার মূল নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card