নিউইয়র্ক ১২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাগজে মজুত থাকলেও মাঠে সারের হাহাকার: সংসদে শফিকুল ইসলাম মাসুদ

  • আপডেটের সময় : ০৭:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কাগজ-কলমে পর্যাপ্ত মজুতের হিসাব দেখানো হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে মাঠপর্যায়ে সারের তীব্র সংকটে কৃষকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সারের কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত দাম রাখা এবং প্রতিটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তুলে আসন্ন বোরো মৌসুমের আগেই বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আওতায় আয়োজিত সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের রাজপথে নেমে সড়ক অবরোধ করতে হচ্ছে।

সংসদে শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি বস্তা সারে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া সুপারিশ পাশ কাটিয়ে একটি চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ বিক্রি করছে। একই ব্যক্তি নিজের স্ত্রী, সন্তান বা আত্মীয়স্বজনের নামে একাধিক ডিলারশিপ কুক্ষিগত করে কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য চালাচ্ছেন, যার চূড়ান্ত ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে খেটে খাওয়া সাধারণ কৃষককে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় সার পাচারের উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য জানান, সম্প্রতি কুড়িগ্রামে অবৈধ মজুত জব্দ এবং গুদাম ভেঙে কৃষকদের সার নেওয়ার মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে সরকারের ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার করে তার বিনিময়ে দেশে ইয়াবা ও আইসের মতো মারাত্মক মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অতীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সারের সংকটের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশ আবারও কৃষকদের গুলির মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে কি না।নিজের কৃষক পরিবারের পরিচয় তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আসন্ন বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপিসহ সব রাসায়নিক সারের ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কাগজে মজুত থাকলেও মাঠে সারের হাহাকার: সংসদে শফিকুল ইসলাম মাসুদ

আপডেটের সময় : ০৭:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাগজ-কলমে পর্যাপ্ত মজুতের হিসাব দেখানো হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে মাঠপর্যায়ে সারের তীব্র সংকটে কৃষকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সারের কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত দাম রাখা এবং প্রতিটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তুলে আসন্ন বোরো মৌসুমের আগেই বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আওতায় আয়োজিত সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের রাজপথে নেমে সড়ক অবরোধ করতে হচ্ছে।

সংসদে শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি বস্তা সারে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া সুপারিশ পাশ কাটিয়ে একটি চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ বিক্রি করছে। একই ব্যক্তি নিজের স্ত্রী, সন্তান বা আত্মীয়স্বজনের নামে একাধিক ডিলারশিপ কুক্ষিগত করে কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য চালাচ্ছেন, যার চূড়ান্ত ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে খেটে খাওয়া সাধারণ কৃষককে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় সার পাচারের উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য জানান, সম্প্রতি কুড়িগ্রামে অবৈধ মজুত জব্দ এবং গুদাম ভেঙে কৃষকদের সার নেওয়ার মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে সরকারের ভর্তুকির সার মিয়ানমারে পাচার করে তার বিনিময়ে দেশে ইয়াবা ও আইসের মতো মারাত্মক মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অতীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সারের সংকটের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশ আবারও কৃষকদের গুলির মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে কি না।নিজের কৃষক পরিবারের পরিচয় তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আসন্ন বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপিসহ সব রাসায়নিক সারের ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Share this news as a Photo Card