নিউইয়র্ক ১১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় মাদ্রাসায় শিকলবন্দী শিশু উদ্ধার

  • আপডেটের সময় : ০৬:২৮:৩৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ জুলাই) রাতে নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, দিনমজুর বাবা ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। তবে মাদ্রাসার মুহতামিম শিশুটিকে ব্যক্তিগত কাজ করানো, গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্য করতেন। এসব কাজে আপত্তি জানালে তাকে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হতো।

শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, তার ছেলে প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসত। রোববার বিকেলে ছেলেকে আনতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মাদ্রাসার একটি কক্ষে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মুহতামিমকে আটক করে। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান বলেন, শিকলবন্দী অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

খুলনায় মাদ্রাসায় শিকলবন্দী শিশু উদ্ধার

আপডেটের সময় : ০৬:২৮:৩৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

খুলনায় একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ জুলাই) রাতে নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, দিনমজুর বাবা ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। তবে মাদ্রাসার মুহতামিম শিশুটিকে ব্যক্তিগত কাজ করানো, গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্য করতেন। এসব কাজে আপত্তি জানালে তাকে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হতো।

শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, তার ছেলে প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসত। রোববার বিকেলে ছেলেকে আনতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মাদ্রাসার একটি কক্ষে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মুহতামিমকে আটক করে। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান বলেন, শিকলবন্দী অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card