নিউইয়র্ক ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং, হামলার আশঙ্কায় পুলিশি নিরাপত্তা চাইল ওজোপাডিকো

  • আপডেটের সময় : ০৭:৫৫:৩৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জ শহরে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনে ও রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপরও বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)।

এ অবস্থায় লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ থেকে ওজোপাডিকোর দপ্তর, উপকেন্দ্র বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। এ কারণে নিজেদের স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে ওজোপাডিকো।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে দপ্তর ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউস, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গোপালগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে এবং স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

ওজোপাডিকোর আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে কেউ দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারেন। এমনকি নাশকতার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই ওজোপাডিকোর সব স্থাপনা ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার এবং সেগুলোকে নিয়মিত পুলিশি টহলের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, দিনে গোপালগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে প্রায় ৯ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। রাতে চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হলেও তখন ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলায় এবং হাসপাতালের রোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

মাঈন উদ্দিন আরও বলেন, ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেটিই গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে অফিস বা উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অতীতেও জাতীয় গ্রিডের কাজের সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তখন মাইকিং করে গ্রাহকদের জানানো এবং প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়েও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এদিকে গোপালগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি এখনো চিঠিটি হাতে পাননি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল তুরস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং, হামলার আশঙ্কায় পুলিশি নিরাপত্তা চাইল ওজোপাডিকো

আপডেটের সময় : ০৭:৫৫:৩৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

গোপালগঞ্জ শহরে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনে ও রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপরও বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)।

এ অবস্থায় লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ থেকে ওজোপাডিকোর দপ্তর, উপকেন্দ্র বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। এ কারণে নিজেদের স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে ওজোপাডিকো।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে দপ্তর ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউস, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গোপালগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে এবং স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

ওজোপাডিকোর আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে কেউ দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারেন। এমনকি নাশকতার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই ওজোপাডিকোর সব স্থাপনা ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার এবং সেগুলোকে নিয়মিত পুলিশি টহলের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, দিনে গোপালগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে প্রায় ৯ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। রাতে চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হলেও তখন ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলায় এবং হাসপাতালের রোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি সামাল দিতে কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

মাঈন উদ্দিন আরও বলেন, ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেটিই গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে অফিস বা উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অতীতেও জাতীয় গ্রিডের কাজের সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তখন মাইকিং করে গ্রাহকদের জানানো এবং প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়েও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এদিকে গোপালগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি এখনো চিঠিটি হাতে পাননি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card