নিউইয়র্ক ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাহকের খোয়া যাওয়া টাকা ২৫ কোটি ছাড়াতে পারে

  • আপডেটের সময় : ১২:২০:১৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ে রোববারও (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শত শত গ্রাহক ব্যাংকটি ঘিরে রাখেন। এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। অনেক গ্রাহক শেষ সম্বল হাড়িয়ে উত্তেজিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা খুঁইয়েছেন এমন গ্রাহকদের রবিবার প্রমাণসহ ব্যাংকে অভিযোগ প্রদান করার জন্য কার্যালয়ের সামনে নোটিশ প্রদান করেছিলেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সেই ঘোষণা অনুসারে  শতাধিক গ্রাহক প্রমাণসহ প্রথম দিনেই লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগ ও জিন্নাহ হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন ব্যাংক পরিদর্শনের আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ব্যাংকের একাধিক সুত্রে জানা যায়, ব্যাংকটি প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনের শতাধিক অভিযোগের মধ্যে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা হারিয়েছেন এমন গ্রাহক আছেন। ৫ লাখ, ১০ লাখ, ২৫ লাখ টাকা জমা রাখা গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি। মূলত প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা জমা রাখা নারীদের সংখ্যাই বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের ভিড় দেখে সংশ্লিষ্টরা অনুমান করছেন টাকার পরিমাণ ২৫ কোটি ছড়িয়ে যেতে পারে। চক্রটি আলাদা একটি সিল বানিয়ে ও গ্রাহকের মোবাইলের পরিবর্তে তাদের মোবাইল নম্বর ব্যাংক হিসাবে বসিয়ে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  

আবার ডাটা এন্ট্রির সময় অনেকের মোবাইল নম্বরে সংখ্যা একটি কম দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা টাকা লেনদেনের এসএমএস না পান।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে চক্রটি নিজেরাই চেক বই তৈরি করে অর্থ তুলে নিয়েছে।

অভিযোগ করতে আসা আইভরি কোস্ট প্রবাসী বাহারুল আলমের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, স্বামী বিদেশ থেকে কষ্ট করে টাকা পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে ৮৪ লাখ টাকা এফডিআর করেন। কিন্তু চক্রটি পুরো টাকাই হাতিয়ে নিয়েছে। সিংগাপুর প্রবাসীর স্ত্রী পলি বেগম ১০ লাখ টাকা হারানোর দাবি করেন। শতাধিক গ্রাহকের মধ্যে মৌসুমী আক্তারের ৩৩ লাখ, বকুল বেগমের  ১০ লাখ, ভানু আক্তারের ৮ লাখ, শিখা আক্তারের ১০ লাখ, তাহমিনা আক্তারের ৪ লাখ, পারুল দাসের ৬ লাখ ২৫ হাজার, লক্ষ্মী রাণী তালুকদারের ৫ লাখ টাকা  আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

শ্রীনগর থানার ওসি মো. জুয়েল মিয়া জানান, আমরা আসামি শরিফুজ্জামান সোহাগ ও জিন্নাহ হোসেনকে খুঁজছি। সন্ধান পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

গ্রাহকের খোয়া যাওয়া টাকা ২৫ কোটি ছাড়াতে পারে

আপডেটের সময় : ১২:২০:১৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ে রোববারও (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শত শত গ্রাহক ব্যাংকটি ঘিরে রাখেন। এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। অনেক গ্রাহক শেষ সম্বল হাড়িয়ে উত্তেজিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা খুঁইয়েছেন এমন গ্রাহকদের রবিবার প্রমাণসহ ব্যাংকে অভিযোগ প্রদান করার জন্য কার্যালয়ের সামনে নোটিশ প্রদান করেছিলেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সেই ঘোষণা অনুসারে  শতাধিক গ্রাহক প্রমাণসহ প্রথম দিনেই লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগ ও জিন্নাহ হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন ব্যাংক পরিদর্শনের আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ব্যাংকের একাধিক সুত্রে জানা যায়, ব্যাংকটি প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনের শতাধিক অভিযোগের মধ্যে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা হারিয়েছেন এমন গ্রাহক আছেন। ৫ লাখ, ১০ লাখ, ২৫ লাখ টাকা জমা রাখা গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি। মূলত প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকা জমা রাখা নারীদের সংখ্যাই বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের ভিড় দেখে সংশ্লিষ্টরা অনুমান করছেন টাকার পরিমাণ ২৫ কোটি ছড়িয়ে যেতে পারে। চক্রটি আলাদা একটি সিল বানিয়ে ও গ্রাহকের মোবাইলের পরিবর্তে তাদের মোবাইল নম্বর ব্যাংক হিসাবে বসিয়ে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  

আবার ডাটা এন্ট্রির সময় অনেকের মোবাইল নম্বরে সংখ্যা একটি কম দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা টাকা লেনদেনের এসএমএস না পান।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে চক্রটি নিজেরাই চেক বই তৈরি করে অর্থ তুলে নিয়েছে।

অভিযোগ করতে আসা আইভরি কোস্ট প্রবাসী বাহারুল আলমের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, স্বামী বিদেশ থেকে কষ্ট করে টাকা পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে ৮৪ লাখ টাকা এফডিআর করেন। কিন্তু চক্রটি পুরো টাকাই হাতিয়ে নিয়েছে। সিংগাপুর প্রবাসীর স্ত্রী পলি বেগম ১০ লাখ টাকা হারানোর দাবি করেন। শতাধিক গ্রাহকের মধ্যে মৌসুমী আক্তারের ৩৩ লাখ, বকুল বেগমের  ১০ লাখ, ভানু আক্তারের ৮ লাখ, শিখা আক্তারের ১০ লাখ, তাহমিনা আক্তারের ৪ লাখ, পারুল দাসের ৬ লাখ ২৫ হাজার, লক্ষ্মী রাণী তালুকদারের ৫ লাখ টাকা  আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

শ্রীনগর থানার ওসি মো. জুয়েল মিয়া জানান, আমরা আসামি শরিফুজ্জামান সোহাগ ও জিন্নাহ হোসেনকে খুঁজছি। সন্ধান পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।

Share this news as a Photo Card