নিউইয়র্ক ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের কড়া সমালোচনা নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির

  • আপডেটের সময় : ০২:৩৫:৪৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভাষণে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ ছড়িয়ে নিজের অপরাধ ঢাকতে চেয়েছেন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরপরই এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

এর আগে থেকেই নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মামদানি গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রসঙ্গ টেনে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের ভাষণে ৩৪ বছর বয়সী মুসলিম মেয়র মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। তিনি মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর নিউইয়র্কে ইহুদিরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।

পাল্টা বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যাকে বৈধতা দিতেই জাতিসংঘ মঞ্চকে ব্যবহার করেছেন নেতানিয়াহু। তবে কোনো মিথ্যাই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সত্যতা মুছে ফেলতে পারবে না। ভাষণে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু এটিকে ‘শ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। এছাড়া তার ভাষণে মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পুরনো প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় মামদানি উপস্থিত না থাকলেও, ওই সময় নিজের সরকারি বাসভবনে জলপাইগাছের চারা রোপণ ও গাজার কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। যার ক্যাপশনে ছিল, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ যেন শান্তির হয়।’

এদিকে মামদানিকে ঘিরে নেতানিয়াহুর এই আক্রমণ শুধু জাতিসংঘেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও বেশ আলোচনায় রয়েছে। লিকুদ পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানির ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন ভিডিওতে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নেতানিয়াহুর এমন রাজনৈতিক কৌশল মার্কিন ও ইসরায়েলি ইহুদিদের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন মামদানির মিত্র ও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ বছরের মধ্যে জনপ্রিয়তায় সর্বনিম্ন ডোনাল্ড ট্রাম্প

শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলে নেবে, ‘আশা’ যুক্তরাষ্ট্রের

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের কড়া সমালোচনা নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির

আপডেটের সময় : ০২:৩৫:৪৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভাষণে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ ছড়িয়ে নিজের অপরাধ ঢাকতে চেয়েছেন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরপরই এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

এর আগে থেকেই নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মামদানি গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রসঙ্গ টেনে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের ভাষণে ৩৪ বছর বয়সী মুসলিম মেয়র মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। তিনি মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর নিউইয়র্কে ইহুদিরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।

পাল্টা বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যাকে বৈধতা দিতেই জাতিসংঘ মঞ্চকে ব্যবহার করেছেন নেতানিয়াহু। তবে কোনো মিথ্যাই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সত্যতা মুছে ফেলতে পারবে না। ভাষণে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু এটিকে ‘শ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। এছাড়া তার ভাষণে মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পুরনো প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় মামদানি উপস্থিত না থাকলেও, ওই সময় নিজের সরকারি বাসভবনে জলপাইগাছের চারা রোপণ ও গাজার কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। যার ক্যাপশনে ছিল, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ যেন শান্তির হয়।’

এদিকে মামদানিকে ঘিরে নেতানিয়াহুর এই আক্রমণ শুধু জাতিসংঘেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও বেশ আলোচনায় রয়েছে। লিকুদ পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানির ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন ভিডিওতে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নেতানিয়াহুর এমন রাজনৈতিক কৌশল মার্কিন ও ইসরায়েলি ইহুদিদের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন মামদানির মিত্র ও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার।

Share this news as a Photo Card