নিউইয়র্ক ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের অর্জন কারও একার নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের: শফিকুর রহমান

  • আপডেটের সময় : ০৭:১৪:১৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৩৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একার নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা কোনো দলের সম্পত্তি নন, তারা পুরো জাতির গর্ব। তাই শহীদ ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। তার ভাষ্য, জনগণের আন্দোলন ও আল্লাহর ইচ্ছার ফলেই সেই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল।

আন্দোলনে শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকদের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। এরপর ছিলেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে শ্রমিকরা এখনও চাঁদাবাজি, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পরিবহন শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের এসব দাবি উত্থাপন করতে হয়েছে। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী সবসময় পাশে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে একক দাবি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; বরং পুরো জাতির সম্মিলিত সংগ্রাম। একই সঙ্গে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা আন্দোলনকারীদের পুনর্বাসন এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। সেই রায় অস্বীকার করা মানে জনগণের ইচ্ছাকে অসম্মান করা। জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত এলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জুলাইয়ের অর্জন কারও একার নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের: শফিকুর রহমান

আপডেটের সময় : ০৭:১৪:১৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একার নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা কোনো দলের সম্পত্তি নন, তারা পুরো জাতির গর্ব। তাই শহীদ ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। তার ভাষ্য, জনগণের আন্দোলন ও আল্লাহর ইচ্ছার ফলেই সেই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল।

আন্দোলনে শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকদের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। এরপর ছিলেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে শ্রমিকরা এখনও চাঁদাবাজি, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পরিবহন শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের এসব দাবি উত্থাপন করতে হয়েছে। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী সবসময় পাশে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে একক দাবি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; বরং পুরো জাতির সম্মিলিত সংগ্রাম। একই সঙ্গে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা আন্দোলনকারীদের পুনর্বাসন এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। সেই রায় অস্বীকার করা মানে জনগণের ইচ্ছাকে অসম্মান করা। জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত এলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card