নিউইয়র্ক ০৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের

  • আপডেটের সময় : ১১:৩১:২০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংকট মোকাবিলায় জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানোর পরিবর্তে রাষ্ট্রের ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, সরকারের নজিরবিহীন অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত আবারও দিতে হচ্ছে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সৃজনশীল বিকল্প খুঁজে বের করার পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ওপর অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বিএনপি সরকার।

তিনি জানান, ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এ নিয়ে তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরকার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়সহ নানা যুক্তি দেখাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

তবে জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকার ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আদায় করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সংকটের সময়ে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে অন্তত সাময়িকভাবে এসব কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো না কেন?

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও লেখেন, সরকার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে চাইছে। অথচ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নকে কেন এত জরুরি করা হলো—এমন প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পে স্কেল স্থগিত রাখা হলো না কেন, সেই প্রশ্নও করেন তিনি।

তিনি আরও প্রশ্ন করেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংকটের অজুহাতে জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো সম্ভব হলে রাষ্ট্রের অন্যান্য ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে না কেন।

জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অবিলম্বে এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন নীতি, পেশা ও অবস্থান বিবেচনায় অগ্রাধিকার

কখন যে পুরো দেশটাকেই উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের

আপডেটের সময় : ১১:৩১:২০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংকট মোকাবিলায় জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানোর পরিবর্তে রাষ্ট্রের ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, সরকারের নজিরবিহীন অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত আবারও দিতে হচ্ছে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সৃজনশীল বিকল্প খুঁজে বের করার পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ওপর অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বিএনপি সরকার।

তিনি জানান, ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এ নিয়ে তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরকার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়সহ নানা যুক্তি দেখাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

তবে জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকার ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আদায় করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সংকটের সময়ে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে অন্তত সাময়িকভাবে এসব কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো না কেন?

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও লেখেন, সরকার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে চাইছে। অথচ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নকে কেন এত জরুরি করা হলো—এমন প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পে স্কেল স্থগিত রাখা হলো না কেন, সেই প্রশ্নও করেন তিনি।

তিনি আরও প্রশ্ন করেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংকটের অজুহাতে জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো সম্ভব হলে রাষ্ট্রের অন্যান্য ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে না কেন।

জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অবিলম্বে এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে।

Share this news as a Photo Card