নিউইয়র্ক ০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে কৃষক হত্যা মামলায় ছেলের ফাঁসি, বাবার যাবজ্জীবন

  • আপডেটের সময় : ০৭:২১:০৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নায়েব আলী হত্যা মামলায় দুজন আসামির শাস্তি ঘোষণা করেছেন আদালত। আসামিরা সম্পর্কে বাবা-ছেলে। এতে ছেলে আলামিনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা ইউনুস আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাসুদ আলী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন কালীগঞ্জ উপজেলার মালিট গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ মে মালিাট গ্রামের আবদুল মোল্লার ছেলে নায়েব আলী নিজের জমিতে কৃষিকাজ শেষে স্থানীয় জামিরুলের দোকানে পানি পান করতে আসেন। এ সময় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নায়েব আলীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি আলামিনকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম আক্তার বাবা-ছেলেকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় রাশিদা বেগম নামে এক নারীকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়নি।

মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিউর রহমান ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব ও অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বাবাকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল, তাদের আজ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। আমি এই রায়ে খুশি। দ্রুত এই রায় বাস্তবায়ন করা হোক। যাতে আর কোনো সন্তান তার বাবাকে না হারায়, আমার মতো আর কেউ যেন এতিম না হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালিব বলেন, মামলার রায়ে আমরা খুশি নই। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি, সেখানে ন্যায়বিচার পাব।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বাবাকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল, তাদের আজ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। আমি এই রায়ে খুশি। দ্রুত এই রায় বাস্তবায়ন করা হোক। যাতে আর কোনো সন্তান তার বাবাকে না হারায়, আমার মতো আর কেউ যেন এতিম না হয়।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালিব বলেন, মামলার রায়ে আমরা খুশি নই। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি, সেখানে ন্যায়বিচার পাব।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অপেক্ষায় দিল্লি: দীনেশ ত্রিবেদী

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের 'অর্থনৈতিক যুদ্ধ' ঘোষণা

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ঝিনাইদহে কৃষক হত্যা মামলায় ছেলের ফাঁসি, বাবার যাবজ্জীবন

আপডেটের সময় : ০৭:২১:০৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নায়েব আলী হত্যা মামলায় দুজন আসামির শাস্তি ঘোষণা করেছেন আদালত। আসামিরা সম্পর্কে বাবা-ছেলে। এতে ছেলে আলামিনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা ইউনুস আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাসুদ আলী এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন কালীগঞ্জ উপজেলার মালিট গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ মে মালিাট গ্রামের আবদুল মোল্লার ছেলে নায়েব আলী নিজের জমিতে কৃষিকাজ শেষে স্থানীয় জামিরুলের দোকানে পানি পান করতে আসেন। এ সময় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নায়েব আলীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি আলামিনকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম আক্তার বাবা-ছেলেকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় রাশিদা বেগম নামে এক নারীকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়নি।

মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিউর রহমান ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব ও অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বাবাকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল, তাদের আজ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। আমি এই রায়ে খুশি। দ্রুত এই রায় বাস্তবায়ন করা হোক। যাতে আর কোনো সন্তান তার বাবাকে না হারায়, আমার মতো আর কেউ যেন এতিম না হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালিব বলেন, মামলার রায়ে আমরা খুশি নই। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি, সেখানে ন্যায়বিচার পাব।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বাবাকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল, তাদের আজ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। আমি এই রায়ে খুশি। দ্রুত এই রায় বাস্তবায়ন করা হোক। যাতে আর কোনো সন্তান তার বাবাকে না হারায়, আমার মতো আর কেউ যেন এতিম না হয়।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালিব বলেন, মামলার রায়ে আমরা খুশি নই। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি, সেখানে ন্যায়বিচার পাব।

Share this news as a Photo Card