নিউইয়র্ক ১২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানায় লালন-পালন হচ্ছে চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৫ গরু, জন্ম নিল এঁড়ে বাছুর

  • আপডেটের সময় : ০৩:১৪:৩৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে গরু চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গরুর লালন-পালন চলছে থানা প্রাঙ্গণেই। প্রায় এক মাস ধরে চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করা হচ্ছে। এরই মধ্যে উদ্ধার হওয়া একটি গরু এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

পুলিশ জানায়, গত জুলাইয়ে নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত একজনকে শনাক্ত করা হয়।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় নাটোরের নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে নওগাঁর আসলাম নামের এক গরু চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, আসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুলাই ভোর রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অসিতকে আটক করা হয়। পরে তাঁর গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি গরু ছিল গর্ভবতী।

উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো রাণীনগর থানা প্রাঙ্গণে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর নিয়মিত দেখভাল করা হচ্ছে। সম্প্রতি গর্ভবতী গরুটি একটি এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, বর্তমানে পাঁচটি গরুই সুস্থ ও ভালো আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে নিয়মিত গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা না গেলে আগামী সপ্তাহে আদালত থেকে গরুগুলো প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির অনুমতি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে গরুগুলো বিক্রি করা হলে সেখান থেকে গরুগুলোর লালন-পালনে ব্যয় হওয়া অর্থ গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

থানায় লালন-পালন হচ্ছে চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৫ গরু, জন্ম নিল এঁড়ে বাছুর

আপডেটের সময় : ০৩:১৪:৩৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে গরু চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি গরুর লালন-পালন চলছে থানা প্রাঙ্গণেই। প্রায় এক মাস ধরে চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করা হচ্ছে। এরই মধ্যে উদ্ধার হওয়া একটি গরু এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

পুলিশ জানায়, গত জুলাইয়ে নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পর্যালোচনা করে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত একজনকে শনাক্ত করা হয়।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় নাটোরের নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে নওগাঁর আসলাম নামের এক গরু চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, আসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুলাই ভোর রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অসিতকে আটক করা হয়। পরে তাঁর গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি গরু ছিল গর্ভবতী।

উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো রাণীনগর থানা প্রাঙ্গণে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর নিয়মিত দেখভাল করা হচ্ছে। সম্প্রতি গর্ভবতী গরুটি একটি এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, বর্তমানে পাঁচটি গরুই সুস্থ ও ভালো আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে নিয়মিত গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা না গেলে আগামী সপ্তাহে আদালত থেকে গরুগুলো প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির অনুমতি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে গরুগুলো বিক্রি করা হলে সেখান থেকে গরুগুলোর লালন-পালনে ব্যয় হওয়া অর্থ গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card