নিউইয়র্ক ০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

গত এক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থিতিশীল মুদ্রা হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছে বাংলাদেশি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ।

তুলনামূলক বিচারে এই সময়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কেবল কম্বোডিয়া কিছুটা ভালো অবস্থান দেখাতে পেরেছে, যাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ।

অন্যান্য দেশের মুদ্রার চিত্র:

ভারতের রুপি: এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন হয়েছে ভারতীয় রুপির। মার্কিন ডলারের বিপরীতে এর মান কমেছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

অন্যান্য দেশ: শ্রীলঙ্কান রুপির ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, ফিলিপাইনের পেসোর ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন ঘটেছে।

শক্তিশালী মুদ্রা: এর বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে চীনের ইউয়ান, যার মান বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির মানও সামান্য শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে গত বছরের মে মাসে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালুর পর মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ফলেই টাকার অবমূল্যায়ন তুলনামূলক সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

পাশাপাশি, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আশানুরূপ রপ্তানি আয়ের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আবারও স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রার ওপর থেকে চাপ কমাতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

গত এক বছর ধরে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার সাধারণত ১২২ থেকে ১২৩ টাকার সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে, যা মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি বিল পরিশোধের বাড়তি চাপের কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা ওঠানামা করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ দশমিক ৮১ টাকা, যা কয়েক দিন আগেও ১২৩ দশমিক ৬৯ টাকা ছিল।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন গোলাবারুদ ঘাটতির তথ্য ফাঁস, দায়ীদের কারাগারে পাঠানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মোজতবা খামেনির সঙ্গে এখন যোগাযোগ করা ‘খুব কঠিন’: ইরানি প্রেসিডেন্ট

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা

আপডেটের সময় : ০৫:০৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

গত এক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থিতিশীল মুদ্রা হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছে বাংলাদেশি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ।

তুলনামূলক বিচারে এই সময়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কেবল কম্বোডিয়া কিছুটা ভালো অবস্থান দেখাতে পেরেছে, যাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ।

অন্যান্য দেশের মুদ্রার চিত্র:

ভারতের রুপি: এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন হয়েছে ভারতীয় রুপির। মার্কিন ডলারের বিপরীতে এর মান কমেছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

অন্যান্য দেশ: শ্রীলঙ্কান রুপির ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, ফিলিপাইনের পেসোর ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ার ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ অবমূল্যায়ন ঘটেছে।

শক্তিশালী মুদ্রা: এর বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে চীনের ইউয়ান, যার মান বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ ছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির মানও সামান্য শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে গত বছরের মে মাসে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালুর পর মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ফলেই টাকার অবমূল্যায়ন তুলনামূলক সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

পাশাপাশি, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আশানুরূপ রপ্তানি আয়ের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আবারও স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রার ওপর থেকে চাপ কমাতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

গত এক বছর ধরে টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার সাধারণত ১২২ থেকে ১২৩ টাকার সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে, যা মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি বিল পরিশোধের বাড়তি চাপের কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা ওঠানামা করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ দশমিক ৮১ টাকা, যা কয়েক দিন আগেও ১২৩ দশমিক ৬৯ টাকা ছিল।

Share this news as a Photo Card