নিউইয়র্ক ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ০৪:৩৬:০৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের একটি ধারা তৈরি হয়েছিল। জনগণ এখন তাদের নির্বাচিত করেছে এবং তারা দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব—এ কথা বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এই চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে এ অঞ্চলের প্রকল্পসহ দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা তার দায়িত্ব। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব, দুর্নীতি কিংবা প্রকল্পের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।

ভারতের পানি আগ্রাসন প্রসঙ্গে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ইতিবাচক হওয়া প্রয়োজন। ভারতকে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভারত এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার যেন বাংলাদেশের মানুষ না হন, সেজন্য আমরাও আরও বেশি সজাগ থাকব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীও সজাগ থাকবে।’

মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়েই কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভেঙে যাওয়া ও বন্যার ক্ষতি থেকে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ রক্ষা পাবেন। এর সুফল পাবেন এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ।

মন্ত্রী জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় বা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিদর্শনকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পরাশক্তিগুলো এখন নিজেদের সীমা বুঝতে শুরু করেছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

২৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৪:৩৬:০৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের একটি ধারা তৈরি হয়েছিল। জনগণ এখন তাদের নির্বাচিত করেছে এবং তারা দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব—এ কথা বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এই চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে এ অঞ্চলের প্রকল্পসহ দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা তার দায়িত্ব। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব, দুর্নীতি কিংবা প্রকল্পের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।

ভারতের পানি আগ্রাসন প্রসঙ্গে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ইতিবাচক হওয়া প্রয়োজন। ভারতকে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভারত এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার যেন বাংলাদেশের মানুষ না হন, সেজন্য আমরাও আরও বেশি সজাগ থাকব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীও সজাগ থাকবে।’

মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়েই কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভেঙে যাওয়া ও বন্যার ক্ষতি থেকে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ রক্ষা পাবেন। এর সুফল পাবেন এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ।

মন্ত্রী জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় বা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিদর্শনকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card