নিউইয়র্ক ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেবিদ্বারে বরাদ্দের পরও ড্রেন নির্মাণে ধীরগতি, বৃষ্টিতে পানিবন্দী সড়ক

  • আপডেটের সময় : ০৭:৪৮:৪৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে কার্যাদেশও। তবে কার্যাদেশ পাওয়ার দীর্ঘদিন পরও শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি-কাদা জমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

দেবিদ্বার পৌরসভার উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে মফিজ চৌধুরীর বাড়ি থেকে ছোট আলমপুর ড্রেন পর্যন্ত সড়কটি ছোট আলমপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়, মফিজ উদ্দিন আহমেদ উচ্চবিদ্যালয়, উপজেলা পরিষদ স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ওপর পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। পানি-কাদায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ তখন চরমে পৌঁছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই এলাকায় ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় দেবিদ্বার পৌরসভা। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম আর এম এন্টারপ্রাইজকে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে কার্যাদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

এলাকাবাসী জানান, ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও কার্যাদেশ দেওয়ার খবর পেয়ে তারা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত নির্মাণসামগ্রীর একটি ইটও সড়কে পড়েনি। ফলে বর্ষা মৌসুমে আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম ইসলাম বলেন, ‘এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এ পথ দিয়ে চলাচল করেন। বৃষ্টি হলেই সড়ক দিয়ে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার অথবা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা জরুরি।’

এ বিষয়ে দেবিদ্বার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, কাজ শুরু না করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরুর জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে নতুন করে টেন্ডার দেওয়া হবে।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম আর এম এন্টারপ্রাইজের পক্ষে কাজটির সাব-কন্ট্রাক্টর জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে কাজের গুণগত মান ঠিক থাকবে না। বৃষ্টি কমলে চলতি মাসেই কাজ শুরু করা হবে।’

দেবিদ্বার পৌরসভার প্রশাসক ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সল উদ্দিন বলেন, ‘এই কাজটির মূল ঠিকাদার দেশের বাইরে আছেন। তিনি সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়েছেন। আমরা দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।’

স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দ ও কার্যাদেশ দেওয়ার পর আর যেন সময়ক্ষেপণ করা না হয়। দ্রুত ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন এলাকাবাসী।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ ইয়র্কের নির্বাচন ১৮ অক্টোবর, ভোটার ৩৫ হাজার, লড়বে দুটি প্যানেল

বাড়ছে বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটে ফ্লাইট সংখ্যা

১৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দেবিদ্বারে বরাদ্দের পরও ড্রেন নির্মাণে ধীরগতি, বৃষ্টিতে পানিবন্দী সড়ক

আপডেটের সময় : ০৭:৪৮:৪৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে কার্যাদেশও। তবে কার্যাদেশ পাওয়ার দীর্ঘদিন পরও শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি-কাদা জমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

দেবিদ্বার পৌরসভার উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে মফিজ চৌধুরীর বাড়ি থেকে ছোট আলমপুর ড্রেন পর্যন্ত সড়কটি ছোট আলমপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়, মফিজ উদ্দিন আহমেদ উচ্চবিদ্যালয়, উপজেলা পরিষদ স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ওপর পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। পানি-কাদায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ তখন চরমে পৌঁছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই এলাকায় ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় দেবিদ্বার পৌরসভা। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম আর এম এন্টারপ্রাইজকে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে কার্যাদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

এলাকাবাসী জানান, ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও কার্যাদেশ দেওয়ার খবর পেয়ে তারা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত নির্মাণসামগ্রীর একটি ইটও সড়কে পড়েনি। ফলে বর্ষা মৌসুমে আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম ইসলাম বলেন, ‘এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এ পথ দিয়ে চলাচল করেন। বৃষ্টি হলেই সড়ক দিয়ে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার অথবা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা জরুরি।’

এ বিষয়ে দেবিদ্বার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, কাজ শুরু না করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরুর জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে নতুন করে টেন্ডার দেওয়া হবে।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম আর এম এন্টারপ্রাইজের পক্ষে কাজটির সাব-কন্ট্রাক্টর জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে কাজের গুণগত মান ঠিক থাকবে না। বৃষ্টি কমলে চলতি মাসেই কাজ শুরু করা হবে।’

দেবিদ্বার পৌরসভার প্রশাসক ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সল উদ্দিন বলেন, ‘এই কাজটির মূল ঠিকাদার দেশের বাইরে আছেন। তিনি সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়েছেন। আমরা দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।’

স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দ ও কার্যাদেশ দেওয়ার পর আর যেন সময়ক্ষেপণ করা না হয়। দ্রুত ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন এলাকাবাসী।

Share this news as a Photo Card