নিউইয়র্ক ০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক থেকে নতুন করে ফেরা, ১৬৫ কোটি টাকার মালিক এই অভিনেত্রী

  • আপডেটের সময় : ০২:০৮:১৩ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

অভিনয়ের পাশাপাশি সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন হলিউড অভিনেত্রী ডাকোটা জনসন। তার সঙ্গে কারও ছবি প্রকাশ্যে এলেই কিংবা একসঙ্গে কোথাও দেখা গেলেই প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ রাতারাতি আন্তর্জাতিক তারকা বানিয়েছিল তাকে।

কিন্তু সেই খ্যাতির সঙ্গে এসেছিল নগ্ন দৃশ্য, যৌনতার উপস্থাপন, সমালোচনা এবং ব্যক্তিজীবন নিয়ে প্রবল আগ্রহ।

সম্প্রতি ডাকোটা জনসন ও র‍্যাপার মেশিন গান কেলিকে (এমজিকে) ঘিরেও নতুন করে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলির বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর এই আলোচনা শুরু হয়।

তবে ডাকোটা জনসন নিজে এমজেকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। বরং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যেকোনো ধরনের গুঞ্জনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার অবস্থানই জানিয়েছেন তিনি।

ডাকোটা জনসন ৩৭ বছরে পা দিলেন আজ। গত এক দশকের বেশি সময়ে তিনি শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নন, প্রযোজক হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে স্বাধীন ধারার ছবি—দুই ধরনের কাজেই তাকে দেখা গেছে। আর ‘ফিফটি শেডস’–এর পর নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে নিজের হাতে নিয়েছেন তিনি।

১৯৮৯ সালের এই দিনে টেক্সাসের অস্টিনে ডাকোটা মাইয়া জনসনের জন্ম। বাবা অভিনেতা ডন জনসন, মা অভিনেত্রী মেলানি গ্রিফিথ। তাঁর নানি ছিলেন ‘দ্য বার্ডস’ ও ‘মার্নি’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া টিপ্পি হেড্রেন। অর্থাৎ অভিনয় তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্যও।

শৈশব কেটেছে হলিউডের পরিচিত পরিবেশে। মাত্র ৯ বছর বয়সে মায়ের অভিনীত এবং তৎকালীন সৎবাবা অ্যান্টোনিও বান্দেরাস পরিচালিত ‘ক্রেজি ইন আলাবামা’ ছবিতেঅভিনয় করেন। পরে ছোট ছোট চরিত্রে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন।

২০১০ সালে ডেভিড ফিঞ্চারের ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এ ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘বেস্ট্রান্ড’, ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’, ‘দ্য ফাইভ-ইয়ার এনগেজমেন্ট’, ‘বেন অ্যান্ড কেট’সহ বেশ কিছু কাজ করেন। তবে এগুলো তাকে বড় তারকা বানাতে পারেনি।
সে কাজ করে দেয় একটি বইয়ের চলচ্চিত্রায়ণ।

২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’। ই এল জেমসের বহুল আলোচিত উপন্যাস অবলম্বনে ছবিতে ডাকোটা অভিনয় করেন আনাস্তাসিয়া স্টিল চরিত্রে, তার বিপরীতে ছিলেন জেমি ডরনান।

ছবিটি মুক্তির আগেই ছিল তুমুল আলোচনায়; কারণ, গল্পে ছিল যৌন সম্পর্ক, আধিপত্য, নগ্নতা ও প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের নানা জটিলতা। ডাকোটার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—এ ধরনের দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে নিজেকে কতটা উন্মুক্ত করবেন এবং চরিত্রটিকে কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবেন।

শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যাননি ডাকোটা। পরিচালক স্যাম টেলর-জনসনও তার সাহসের প্রশংসা করেছিলেন। ডাকোটা নিজেও জানিয়েছিলেন, অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোয় তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন। এসব দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় সেট ছিল সীমিত মানুষ নিয়ে, যাতে অভিনেতাদের ব্যক্তিগত পরিসর বজায় থাকে।

শুধু অভিনয় নয়, চরিত্রটির জন্য শারীরিক প্রস্তুতিও নিতে হয়েছিল ডাকোটাকে। ২০১৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ছবিতে নগ্ন হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই শরীরকে প্রস্তুত করেছিলেন।

২০২২ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডাকোটা জানান, তিনি যৌনতা সম্পর্কে কৌতূহলী এবং সে কারণেই এমন ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। ‘ফিফটি শেডস’ করার সময় তিনি যে ধরনের সিনেমা কল্পনা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ছবিটি তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা হয়েছিল।

ডাকোটার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিজের শরীর ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। ‘ফিফটি শেডস’–এর অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে যত আলোচনা হয়েছে, ডাকোটা ততই স্পষ্ট করেছেন—এগুলো তার অভিনয়জীবনের একটি অংশ, পুরো পরিচয় নয়।

‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পায়। প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটের ছবিটি বিশ্বজুড়ে আয় করে প্রায় ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

এরপর আসে ‘ফিফটি শেডস ডার্কার’ ও ‘ফিফটি শেডস ফ্রিড’। দ্বিতীয় ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার এবং তৃতীয়টি প্রায় ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে।

অর্থাৎ তিন ছবির ফ্র্যাঞ্চাইজি ডাকোটাকে শুধু তারকা বানায়নি, তাকে হলিউডের বড় বাণিজ্যিক ছবির অভিনেত্রীদের সারিতেও নিয়ে আসে।

প্রথম ছবির জন্য ডাকোটার পারিশ্রমিক ছিল তুলনামূলকভাবে কম—প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু প্রথম ছবির বিপুল সাফল্যের পর পরবর্তী দুটি ছবির জন্য তার পারিশ্রমিক সাত অঙ্কে পৌঁছে যায় বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

ডাকোটার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি টাইম পিকচার্স। সাবেক নেটফ্লিক্স নির্বাহী রো ডনেলির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন তিনি। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি বোট রকারের সঙ্গে ফার্স্ট লুক চুক্তি করে।

প্রযোজক হিসেবে ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’, ‘অ্যাম আই ওকে?’, ‘ড্যাডিও’সহ বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছেন। ‘ড্যাডিও’-তে শন পেনের বিপরীতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বও ছিল তার।

তবে ক্যারিয়ারে সব সিদ্ধান্ত সাফল্য এনে দেয়নি। ২০২৪ সালের সুপারহিরো ছবি ‘ম্যাডাম ওয়েব’ ছিল ডাকোটার জন্য বড় ধাক্কা।
সনি পিকচার্সের ছবিতে ক্যাসান্দ্রা ওয়েব চরিত্রে অভিনয় করেন ডাকোটা। কিন্তু ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এবং বক্স অফিসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ডলার।

অভিনেত্রী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও ব্যক্তিজীবনে যতটা সম্ভব নিজের মতো থাকার চেষ্টা ডাকোটার ক্যারিয়ারের একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য।

আবার বড় আলোচনায় এসেছেন ‘ভেরিটি’ সিনেমা নিয়ে ডাকোটা। কোলিন হুভারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে ছবিতে তার সঙ্গে আছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে ও জশ হার্টনেট।

জানা যায়, সেলিব্রেটি নেট ওয়েথের হিসাবে ডাকোটার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা।

ডাকোটার আয়ের প্রধান উৎস অভিনয় হলেও ‘ফিফটি শেডস’–এর পারিশ্রমিক, পরবর্তী সিনেমাগুলোর আয়, প্রযোজনা এবং ব্র্যান্ড-সম্পৃক্ততা তার সম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

‘ফিফটি শেডস’–এর পর ডাকোটা যেন ইচ্ছা করেই ভিন্ন পথে হাঁটতে শুরু করেন। অভিনয় করেন ‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’, ‘ব্ল্যাক মাস’, ‘হাউ টু বি সিঙ্গেল’, ‘ব্যাড টাইমস অ্যাট দ্য এল রয়্যাল’, ‘সাসপিরিয়া’-এ।

বিশেষ করে লুকা গুয়াদানিনোর ‘সাসপিরিয়া’ ছিল ডাকোটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এখানে তিনি ‘ফিফটি শেডস’–এর পরিচিত রোমান্টিক তারকা নন; বরং জটিল ও অন্ধকার চরিত্রে অভিনয় করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

নিউইয়র্ক থেকে ইরানের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করল যুক্তরাষ্ট্র

০৪ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক থেকে নতুন করে ফেরা, ১৬৫ কোটি টাকার মালিক এই অভিনেত্রী

আপডেটের সময় : ০২:০৮:১৩ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

অভিনয়ের পাশাপাশি সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন হলিউড অভিনেত্রী ডাকোটা জনসন। তার সঙ্গে কারও ছবি প্রকাশ্যে এলেই কিংবা একসঙ্গে কোথাও দেখা গেলেই প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ রাতারাতি আন্তর্জাতিক তারকা বানিয়েছিল তাকে।

কিন্তু সেই খ্যাতির সঙ্গে এসেছিল নগ্ন দৃশ্য, যৌনতার উপস্থাপন, সমালোচনা এবং ব্যক্তিজীবন নিয়ে প্রবল আগ্রহ।

সম্প্রতি ডাকোটা জনসন ও র‍্যাপার মেশিন গান কেলিকে (এমজিকে) ঘিরেও নতুন করে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলির বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর এই আলোচনা শুরু হয়।

তবে ডাকোটা জনসন নিজে এমজেকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। বরং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যেকোনো ধরনের গুঞ্জনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার অবস্থানই জানিয়েছেন তিনি।

ডাকোটা জনসন ৩৭ বছরে পা দিলেন আজ। গত এক দশকের বেশি সময়ে তিনি শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নন, প্রযোজক হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে স্বাধীন ধারার ছবি—দুই ধরনের কাজেই তাকে দেখা গেছে। আর ‘ফিফটি শেডস’–এর পর নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে নিজের হাতে নিয়েছেন তিনি।

১৯৮৯ সালের এই দিনে টেক্সাসের অস্টিনে ডাকোটা মাইয়া জনসনের জন্ম। বাবা অভিনেতা ডন জনসন, মা অভিনেত্রী মেলানি গ্রিফিথ। তাঁর নানি ছিলেন ‘দ্য বার্ডস’ ও ‘মার্নি’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া টিপ্পি হেড্রেন। অর্থাৎ অভিনয় তাঁর কাছে কেবল পেশা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্যও।

শৈশব কেটেছে হলিউডের পরিচিত পরিবেশে। মাত্র ৯ বছর বয়সে মায়ের অভিনীত এবং তৎকালীন সৎবাবা অ্যান্টোনিও বান্দেরাস পরিচালিত ‘ক্রেজি ইন আলাবামা’ ছবিতেঅভিনয় করেন। পরে ছোট ছোট চরিত্রে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন।

২০১০ সালে ডেভিড ফিঞ্চারের ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এ ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ‘বেস্ট্রান্ড’, ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’, ‘দ্য ফাইভ-ইয়ার এনগেজমেন্ট’, ‘বেন অ্যান্ড কেট’সহ বেশ কিছু কাজ করেন। তবে এগুলো তাকে বড় তারকা বানাতে পারেনি।
সে কাজ করে দেয় একটি বইয়ের চলচ্চিত্রায়ণ।

২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’। ই এল জেমসের বহুল আলোচিত উপন্যাস অবলম্বনে ছবিতে ডাকোটা অভিনয় করেন আনাস্তাসিয়া স্টিল চরিত্রে, তার বিপরীতে ছিলেন জেমি ডরনান।

ছবিটি মুক্তির আগেই ছিল তুমুল আলোচনায়; কারণ, গল্পে ছিল যৌন সম্পর্ক, আধিপত্য, নগ্নতা ও প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের নানা জটিলতা। ডাকোটার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—এ ধরনের দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে নিজেকে কতটা উন্মুক্ত করবেন এবং চরিত্রটিকে কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবেন।

শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যাননি ডাকোটা। পরিচালক স্যাম টেলর-জনসনও তার সাহসের প্রশংসা করেছিলেন। ডাকোটা নিজেও জানিয়েছিলেন, অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোয় তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন। এসব দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় সেট ছিল সীমিত মানুষ নিয়ে, যাতে অভিনেতাদের ব্যক্তিগত পরিসর বজায় থাকে।

শুধু অভিনয় নয়, চরিত্রটির জন্য শারীরিক প্রস্তুতিও নিতে হয়েছিল ডাকোটাকে। ২০১৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ছবিতে নগ্ন হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই শরীরকে প্রস্তুত করেছিলেন।

২০২২ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডাকোটা জানান, তিনি যৌনতা সম্পর্কে কৌতূহলী এবং সে কারণেই এমন ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। ‘ফিফটি শেডস’ করার সময় তিনি যে ধরনের সিনেমা কল্পনা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ছবিটি তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা হয়েছিল।

ডাকোটার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিজের শরীর ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। ‘ফিফটি শেডস’–এর অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে যত আলোচনা হয়েছে, ডাকোটা ততই স্পষ্ট করেছেন—এগুলো তার অভিনয়জীবনের একটি অংশ, পুরো পরিচয় নয়।

‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পায়। প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটের ছবিটি বিশ্বজুড়ে আয় করে প্রায় ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

এরপর আসে ‘ফিফটি শেডস ডার্কার’ ও ‘ফিফটি শেডস ফ্রিড’। দ্বিতীয় ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার এবং তৃতীয়টি প্রায় ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে।

অর্থাৎ তিন ছবির ফ্র্যাঞ্চাইজি ডাকোটাকে শুধু তারকা বানায়নি, তাকে হলিউডের বড় বাণিজ্যিক ছবির অভিনেত্রীদের সারিতেও নিয়ে আসে।

প্রথম ছবির জন্য ডাকোটার পারিশ্রমিক ছিল তুলনামূলকভাবে কম—প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু প্রথম ছবির বিপুল সাফল্যের পর পরবর্তী দুটি ছবির জন্য তার পারিশ্রমিক সাত অঙ্কে পৌঁছে যায় বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

ডাকোটার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি টাইম পিকচার্স। সাবেক নেটফ্লিক্স নির্বাহী রো ডনেলির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন তিনি। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি বোট রকারের সঙ্গে ফার্স্ট লুক চুক্তি করে।

প্রযোজক হিসেবে ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’, ‘অ্যাম আই ওকে?’, ‘ড্যাডিও’সহ বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছেন। ‘ড্যাডিও’-তে শন পেনের বিপরীতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বও ছিল তার।

তবে ক্যারিয়ারে সব সিদ্ধান্ত সাফল্য এনে দেয়নি। ২০২৪ সালের সুপারহিরো ছবি ‘ম্যাডাম ওয়েব’ ছিল ডাকোটার জন্য বড় ধাক্কা।
সনি পিকচার্সের ছবিতে ক্যাসান্দ্রা ওয়েব চরিত্রে অভিনয় করেন ডাকোটা। কিন্তু ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এবং বক্স অফিসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ডলার।

অভিনেত্রী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও ব্যক্তিজীবনে যতটা সম্ভব নিজের মতো থাকার চেষ্টা ডাকোটার ক্যারিয়ারের একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য।

আবার বড় আলোচনায় এসেছেন ‘ভেরিটি’ সিনেমা নিয়ে ডাকোটা। কোলিন হুভারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে ছবিতে তার সঙ্গে আছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে ও জশ হার্টনেট।

জানা যায়, সেলিব্রেটি নেট ওয়েথের হিসাবে ডাকোটার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা।

ডাকোটার আয়ের প্রধান উৎস অভিনয় হলেও ‘ফিফটি শেডস’–এর পারিশ্রমিক, পরবর্তী সিনেমাগুলোর আয়, প্রযোজনা এবং ব্র্যান্ড-সম্পৃক্ততা তার সম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

‘ফিফটি শেডস’–এর পর ডাকোটা যেন ইচ্ছা করেই ভিন্ন পথে হাঁটতে শুরু করেন। অভিনয় করেন ‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’, ‘ব্ল্যাক মাস’, ‘হাউ টু বি সিঙ্গেল’, ‘ব্যাড টাইমস অ্যাট দ্য এল রয়্যাল’, ‘সাসপিরিয়া’-এ।

বিশেষ করে লুকা গুয়াদানিনোর ‘সাসপিরিয়া’ ছিল ডাকোটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এখানে তিনি ‘ফিফটি শেডস’–এর পরিচিত রোমান্টিক তারকা নন; বরং জটিল ও অন্ধকার চরিত্রে অভিনয় করেন।

Share this news as a Photo Card