নিউইয়র্ক ১১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে সেতু নির্মাণে অনিয়ম, উপজেলা প্রকৌশলীর বদলি ও ২ জন বরখাস্ত

  • আপডেটের সময় : ১২:২৫:৩২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাসান হাট বাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর ফুটপাতে নিম্নমানের স্ল্যাব স্থাপনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেতুর নিম্নমানের স্ল্যাব অপসারণের পাশাপাশি বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে বদলি এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক ও কার্যসহকারী (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) মাইন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সেতুটিতে স্থাপিত নিম্নমানের ফুটপাতের স্ল্যাব ও নির্মাণাধীন রেলিং ভেঙে ফেলার একটি ভিডিও মঙ্গলবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এর আগের দিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের স্ল্যাবগুলো অপসারণের কাজ শুরু করে।

এর আগে সোমবার এলজিইডির নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী পৃথক পত্রে কর্তব্যকাজে অবহেলার অভিযোগে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হকের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের কাজ নিয়ম অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত করে পুনরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়। প্রধান প্রকৌশলীর পৃথক আরেক আদেশে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক ও কার্যসহকারী মাইন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএসএম মহসিন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সেতুর স্ল্যাবের কাজে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল ইত্তেফাককে বলেন, গত সোমবার সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে নিম্নমানের কাজ ধরা পড়ে। এতে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড দেওয়া হয়েছিল, যা নকশা ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য (স্পেসিফিকেশন) বহির্ভূত। পরদিন মঙ্গলবার থেকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফেনীর মেসার্স হক ট্রেডার্সের লোকজন ফুটপাতের নিম্নমানের স্ল্যাবগুলো ভেঙে তুলে পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেন। এ সময় কিছু উৎসাহী ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পুনরায় কাজ করার জন্য বুধবার পুরো স্ল্যাব তুলে সেতুটি পরিষ্কার করা হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট হয়ে হাসানহাট এলাকায় মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৯ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের মে মাসে। এর আগে ২০২২ সালে কাজটির কার্যাদেশ দেওয়া হলেও স্থান বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব হয়। সেতুটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সেতুটির পুরো কাজ শেষ হবে।

এদিকে রেলিং নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএসএম মহসিন বলেন, স্ল্যাবের কাজের সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ রেলিংয়ের কাজও সংশোধন করে সম্পন্ন করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

নোয়াখালীতে সেতু নির্মাণে অনিয়ম, উপজেলা প্রকৌশলীর বদলি ও ২ জন বরখাস্ত

আপডেটের সময় : ১২:২৫:৩২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাসান হাট বাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর ফুটপাতে নিম্নমানের স্ল্যাব স্থাপনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেতুর নিম্নমানের স্ল্যাব অপসারণের পাশাপাশি বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে বদলি এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক ও কার্যসহকারী (ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট) মাইন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সেতুটিতে স্থাপিত নিম্নমানের ফুটপাতের স্ল্যাব ও নির্মাণাধীন রেলিং ভেঙে ফেলার একটি ভিডিও মঙ্গলবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এর আগের দিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের স্ল্যাবগুলো অপসারণের কাজ শুরু করে।

এর আগে সোমবার এলজিইডির নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী পৃথক পত্রে কর্তব্যকাজে অবহেলার অভিযোগে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হকের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের কাজ নিয়ম অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত করে পুনরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়। প্রধান প্রকৌশলীর পৃথক আরেক আদেশে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক ও কার্যসহকারী মাইন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএসএম মহসিন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সেতুর স্ল্যাবের কাজে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল ইত্তেফাককে বলেন, গত সোমবার সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে নিম্নমানের কাজ ধরা পড়ে। এতে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড দেওয়া হয়েছিল, যা নকশা ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য (স্পেসিফিকেশন) বহির্ভূত। পরদিন মঙ্গলবার থেকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফেনীর মেসার্স হক ট্রেডার্সের লোকজন ফুটপাতের নিম্নমানের স্ল্যাবগুলো ভেঙে তুলে পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেন। এ সময় কিছু উৎসাহী ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পুনরায় কাজ করার জন্য বুধবার পুরো স্ল্যাব তুলে সেতুটি পরিষ্কার করা হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট হয়ে হাসানহাট এলাকায় মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৯ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের মে মাসে। এর আগে ২০২২ সালে কাজটির কার্যাদেশ দেওয়া হলেও স্থান বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব হয়। সেতুটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সেতুটির পুরো কাজ শেষ হবে।

এদিকে রেলিং নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএসএম মহসিন বলেন, স্ল্যাবের কাজের সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ রেলিংয়ের কাজও সংশোধন করে সম্পন্ন করা হবে।

Share this news as a Photo Card