রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পত্রপত্রিকা পড়ে রাজনীতির কথা বলা যাবে না। সবাই জানতে পারবেন।’
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকরা জানতে চান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন—এমন আলোচনার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী। জবাবে তিনি বলেন, ‘পত্রপত্রিকা পড়ে রাজনীতির কথা বলা যাবে না।’
এ সময় চিকিৎসা শেষে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দেশে ফেরার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবাই জানতে পারবেন।’
অন্যদিকে, দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ বিদেশে থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরেছেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন, না করবেন সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি, দেশের প্রথম ব্যক্তি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তবে তা স্পিকারের কাছেই জমা দেবেন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।’
সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার কারণ সম্পর্কে স্পিকার বলেন, চিকিৎসা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পাশাপাশি ঢাকায় তাঁর কিছু ব্যক্তিগত কাজ থাকায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরেছেন।
এর আগে ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা) আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’। এতে দেশি-বিদেশি গবেষক, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


























