নিউইয়র্ক ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ি জমির সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

  • আপডেটের সময় : ১২:০২:১৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি সৌরশক্তি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পাহাড়ি জমিতে স্থাপিত কর্ণফুলী সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। গত প্রায় সাত বছরে কেন্দ্রটি থেকে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

কাপ্তাই বাঁধের পাশে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত প্রায় ২২ একর জমির মধ্যে ১৯ একর জমিতে ২০১৯ সালে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১১ কোটি টাকা। এর উৎপাদনক্ষমতা ৭ মেগাওয়াট।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর পর থেকে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা জমিতে কেন্দ্রটি স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলক কম জনবল প্রয়োজন হয়। সৌর প্যানেল পরিষ্কার রাখা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই এর প্রধান কাজ। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কমে যেতে পারে।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বেশ লাভজনক। এটি পরিচালনায় জনবল ও ব্যয় তুলনামূলক কম। নিয়মিত সৌর প্যানেল পরিষ্কার রাখাই মূল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না। পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ৫৭ বছর পর ৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ প্রকল্প সৌরশক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের নতুন উৎস তৈরি করেছে। সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে দুটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা আরও ১ মেগাওয়াট বাড়ানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি কাপ্তাই উপজেলার ইটভাটা এলাকায় ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের উপযোগী ও অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সাজেকে ফের অবরোধের ঘোষণা

দুর্গাপূজায় সোনাহাট স্থলবন্দরে টানা ৭ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

১৪ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পাহাড়ি জমির সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

আপডেটের সময় : ১২:০২:১৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি সৌরশক্তি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পাহাড়ি জমিতে স্থাপিত কর্ণফুলী সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। গত প্রায় সাত বছরে কেন্দ্রটি থেকে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

কাপ্তাই বাঁধের পাশে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত প্রায় ২২ একর জমির মধ্যে ১৯ একর জমিতে ২০১৯ সালে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১১ কোটি টাকা। এর উৎপাদনক্ষমতা ৭ মেগাওয়াট।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর পর থেকে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা জমিতে কেন্দ্রটি স্থাপনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলক কম জনবল প্রয়োজন হয়। সৌর প্যানেল পরিষ্কার রাখা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই এর প্রধান কাজ। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কমে যেতে পারে।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বেশ লাভজনক। এটি পরিচালনায় জনবল ও ব্যয় তুলনামূলক কম। নিয়মিত সৌর প্যানেল পরিষ্কার রাখাই মূল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না। পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ৫৭ বছর পর ৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ প্রকল্প সৌরশক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের নতুন উৎস তৈরি করেছে। সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে দুটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা আরও ১ মেগাওয়াট বাড়ানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি কাপ্তাই উপজেলার ইটভাটা এলাকায় ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের উপযোগী ও অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

Share this news as a Photo Card