নিউইয়র্ক ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

  • আপডেটের সময় : ০৫:২৪:১৭ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

তেহরান তেল বিক্রি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশকেও তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানের ব্রিজ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাল্টা হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরই এই বার্তা দিয়েছে দেশটি।

বুধবার (২২ জুলাই) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, এই সংঘাত এখন ‘সব অথবা কিছুই না’ সমীকরণে পৌঁছে গেছে। তিনি জানান, ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে এই অঞ্চলে আর কাউকেই তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।

গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্রণালিটির পরিস্থিতি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি মিসাইল, রকেট বা ড্রোন দিয়ে কোনো জাহাজে আক্রমণ চালায়, তবে তার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য স্থানে একটি করে ব্রিজ বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে।

এদিকে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার অজুহাতে টানা ১২ দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে এই হামলা চালানো অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই টানা বিমান হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো হামলার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে তাদের দেশ ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের আহওয়াজ, রামশির ও আন্দিমেস্ক শহরের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিরোধ করছে। অন্যদিকে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও পানি শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেটের সময় : ০৫:২৪:১৭ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

তেহরান তেল বিক্রি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশকেও তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানের ব্রিজ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাল্টা হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরই এই বার্তা দিয়েছে দেশটি।

বুধবার (২২ জুলাই) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, এই সংঘাত এখন ‘সব অথবা কিছুই না’ সমীকরণে পৌঁছে গেছে। তিনি জানান, ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে এই অঞ্চলে আর কাউকেই তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।

গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্রণালিটির পরিস্থিতি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি মিসাইল, রকেট বা ড্রোন দিয়ে কোনো জাহাজে আক্রমণ চালায়, তবে তার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য স্থানে একটি করে ব্রিজ বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে।

এদিকে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার অজুহাতে টানা ১২ দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে এই হামলা চালানো অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই টানা বিমান হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো হামলার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে তাদের দেশ ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের আহওয়াজ, রামশির ও আন্দিমেস্ক শহরের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিরোধ করছে। অন্যদিকে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও পানি শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card