নিউইয়র্ক ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশান্ত মহাসাগরে স্বর্ণ-রুপার বিশাল মজুতের সন্ধান

  • আপডেটের সময় : ০১:১৮:১৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপার মজুতের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। ধাতু দুটির এত বেশি ঘনত্বের সন্ধান অত্যন্ত বিরল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, ঐ এলাকায় খনিজ সম্পদের বড় অর্থনৈতিক মূল্য ও খনন সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সমুদ্রের তলদেশে খনন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি ও সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ অভিযানে এই সন্ধান মেলে। সমুদ্রতলের একটি হাইড্রোথার্মাল এলাকায় এসব স্বর্ণ ও রুপার মজুত পাওয়া গেছে। সেখানে ভূগর্ভের অত্যন্ত উত্তপ্ত ও খনিজসমৃদ্ধ তরল সমুদ্রতলের ফাটল দিয়ে ওপরে উঠে আসে।

গবেষকরা সমুদ্রতলে শঙ্কু আকৃতির (ত্রিমাত্রিক) তিনটি বড় খনিজ স্তর বা হাইড্রোথার্মাল সালফাইডের সন্ধান পান। সাধারণত এসব স্তরে তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি অল্প পরিমাণে স্বর্ণ ও রুপা থাকে। কিন্তু এবার পাওয়া নমুনায় মূল্যবান এই দুই ধাতুর পরিমাণ অন্য ধাতুগুলোর তুলনায় বেশি। কিছু নমুনায় স্থলভাগের আকরিকের তুলনায়ও বেশি স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি মার্কিন শর্ট টন আকরিকে স্বর্ণের ঘনত্ব সর্বোচ্চ ০.৪৫ ট্রয় আউন্স এবং রুপার ঘনত্ব ৩৬.৩ ট্রয় আউন্স পর্যন্ত। কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিকে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫.৪ গ্রাম এবং রুপা ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি বলেন, বিশাল এই সমুদ্রতলের খনন এলাকায় ‘অত্যন্ত উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য’ রয়েছে। গবেষকদের মতে, ঐ অঞ্চলের বহু ধাতব সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজ মজুতের সমপর্যায়ের হতে পারে।

১০ আগস্ট শেনজেন থেকে চীনের গবেষণা জাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ করে ১৮ দিনের অভিযান শুরু হয়। এ সময় গবেষকরা সাবমার্সিবল ব্যবহার করে সাত বার সমুদ্রতলে ডুব দেন। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ব্যাক-আর্ক বেসিনে অভিযান চালিয়ে তারা এই বিশাল হাইড্রোথার্মাল খনিজ এলাকার সন্ধান পান।

সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় গবেষণা জাহাজটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব এবং ফিলিপাইনের উত্তরের জলসীমা দিয়ে চলাচল করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খনিজের সন্ধান পাওয়া বেসিনটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। তবে এর সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

প্রশান্ত মহাসাগরে স্বর্ণ-রুপার বিশাল মজুতের সন্ধান

আপডেটের সময় : ০১:১৮:১৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপার মজুতের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। ধাতু দুটির এত বেশি ঘনত্বের সন্ধান অত্যন্ত বিরল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, ঐ এলাকায় খনিজ সম্পদের বড় অর্থনৈতিক মূল্য ও খনন সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সমুদ্রের তলদেশে খনন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি ও সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ অভিযানে এই সন্ধান মেলে। সমুদ্রতলের একটি হাইড্রোথার্মাল এলাকায় এসব স্বর্ণ ও রুপার মজুত পাওয়া গেছে। সেখানে ভূগর্ভের অত্যন্ত উত্তপ্ত ও খনিজসমৃদ্ধ তরল সমুদ্রতলের ফাটল দিয়ে ওপরে উঠে আসে।

গবেষকরা সমুদ্রতলে শঙ্কু আকৃতির (ত্রিমাত্রিক) তিনটি বড় খনিজ স্তর বা হাইড্রোথার্মাল সালফাইডের সন্ধান পান। সাধারণত এসব স্তরে তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি অল্প পরিমাণে স্বর্ণ ও রুপা থাকে। কিন্তু এবার পাওয়া নমুনায় মূল্যবান এই দুই ধাতুর পরিমাণ অন্য ধাতুগুলোর তুলনায় বেশি। কিছু নমুনায় স্থলভাগের আকরিকের তুলনায়ও বেশি স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি মার্কিন শর্ট টন আকরিকে স্বর্ণের ঘনত্ব সর্বোচ্চ ০.৪৫ ট্রয় আউন্স এবং রুপার ঘনত্ব ৩৬.৩ ট্রয় আউন্স পর্যন্ত। কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিকে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫.৪ গ্রাম এবং রুপা ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি বলেন, বিশাল এই সমুদ্রতলের খনন এলাকায় ‘অত্যন্ত উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য’ রয়েছে। গবেষকদের মতে, ঐ অঞ্চলের বহু ধাতব সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজ মজুতের সমপর্যায়ের হতে পারে।

১০ আগস্ট শেনজেন থেকে চীনের গবেষণা জাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ করে ১৮ দিনের অভিযান শুরু হয়। এ সময় গবেষকরা সাবমার্সিবল ব্যবহার করে সাত বার সমুদ্রতলে ডুব দেন। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ব্যাক-আর্ক বেসিনে অভিযান চালিয়ে তারা এই বিশাল হাইড্রোথার্মাল খনিজ এলাকার সন্ধান পান।

সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় গবেষণা জাহাজটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব এবং ফিলিপাইনের উত্তরের জলসীমা দিয়ে চলাচল করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খনিজের সন্ধান পাওয়া বেসিনটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। তবে এর সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।

Share this news as a Photo Card