নিউইয়র্ক ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলা, নিহত ৩

  • আপডেটের সময় : ০৪:৩৩:০৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাউথ কোতাবাতো প্রদেশের বাঙ্গা শহরের একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। পরে হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাঙ্গা শহরের মেয়র আলবার্ট পালেন্সিয়া রয়টার্সকে বলেন, নিহত ও আহত সবাই শিক্ষার্থী এবং তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। হামলাকারী নিজের নবম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে পাশের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

পালেন্সিয়া জানান, হামলার আগে ওই শিক্ষার্থী তার কয়েকজন বন্ধুর পাশে বসে তাদের বাড়ি চলে যেতে বলেছিল। সে জানিয়েছিল, দুপুরের পর সে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তবে বন্ধুরা তার কথাকে গুরুত্ব দেয়নি, কারণ সে সাধারণত রসিকতা করত।

পরে দুপুরের খাবারের বিরতির পর ওই শিক্ষার্থী গুলি চালানো শুরু করে। মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, সে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করে আহত করার পর নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।

পুলিশের বরাতে পালেন্সিয়া জানান, হামলায় ব্যবহৃত ৯ মিলিমিটার পিস্তলটি ওই শিক্ষার্থীর বাবার। তার বাবা দেশটির শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মী। স্কুলে যাওয়ার আগে ওই শিক্ষার্থী অস্ত্রটি যেখানে রাখা ছিল, সেই ভল্ট ভেঙে পিস্তলটি নিয়ে যায়। তার কাছে অস্ত্রটির দুটি ম্যাগাজিনও ছিল।

হামলাকারীকে মেধাবী শিক্ষার্থী এবং তায়কোয়ান্দোতে সক্রিয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন মেয়র। তাকে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে হামলার সঙ্গে অনলাইন বিভিন্ন কমিউনিটির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিক্ষার্থী একটি অনলাইন ‘ট্রু ক্রাইম’ কমিউনিটিতে পোস্ট করত। তবে ওই গ্রুপের সঙ্গে হামলার কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও গত জুন থেকে দেশটির স্কুলগুলোতে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা। জুনে টাকলোবান শহরের একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত ও প্রায় ২০ জন আহত হয়। গত মাসে জাম্বোয়াঙ্গা শহরেও এক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে গুলি চালিয়ে আরেক শিক্ষার্থীকে হত্যা করার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করে। পরে ওই হামলাকারীও আত্মহত্যা করে।

ফিলিপাইনে অস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠোর নিয়ম রয়েছে। অস্ত্রের মালিকদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ও মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে দেশটিতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এখনও রয়েছে।

সাউথ কোতাবাতোর গভর্নর রেইনালদো তামায়ো অভিভাবকদের সন্তানদের নাগালের বাইরে অস্ত্র রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অল্পসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীর ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এজন্য অভিভাবকসহ সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা প্রসঙ্গে ঢাকার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বার্তা

ইরানকে ‘নির্মূল’ করবো নাকি করবো না সিদ্ধান্ত আসছে: ট্রাম্প 

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলা, নিহত ৩

আপডেটের সময় : ০৪:৩৩:০৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাউথ কোতাবাতো প্রদেশের বাঙ্গা শহরের একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। পরে হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাঙ্গা শহরের মেয়র আলবার্ট পালেন্সিয়া রয়টার্সকে বলেন, নিহত ও আহত সবাই শিক্ষার্থী এবং তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। হামলাকারী নিজের নবম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে পাশের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

পালেন্সিয়া জানান, হামলার আগে ওই শিক্ষার্থী তার কয়েকজন বন্ধুর পাশে বসে তাদের বাড়ি চলে যেতে বলেছিল। সে জানিয়েছিল, দুপুরের পর সে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তবে বন্ধুরা তার কথাকে গুরুত্ব দেয়নি, কারণ সে সাধারণত রসিকতা করত।

পরে দুপুরের খাবারের বিরতির পর ওই শিক্ষার্থী গুলি চালানো শুরু করে। মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, সে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করে আহত করার পর নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।

পুলিশের বরাতে পালেন্সিয়া জানান, হামলায় ব্যবহৃত ৯ মিলিমিটার পিস্তলটি ওই শিক্ষার্থীর বাবার। তার বাবা দেশটির শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মী। স্কুলে যাওয়ার আগে ওই শিক্ষার্থী অস্ত্রটি যেখানে রাখা ছিল, সেই ভল্ট ভেঙে পিস্তলটি নিয়ে যায়। তার কাছে অস্ত্রটির দুটি ম্যাগাজিনও ছিল।

হামলাকারীকে মেধাবী শিক্ষার্থী এবং তায়কোয়ান্দোতে সক্রিয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন মেয়র। তাকে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে হামলার সঙ্গে অনলাইন বিভিন্ন কমিউনিটির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিক্ষার্থী একটি অনলাইন ‘ট্রু ক্রাইম’ কমিউনিটিতে পোস্ট করত। তবে ওই গ্রুপের সঙ্গে হামলার কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও গত জুন থেকে দেশটির স্কুলগুলোতে এটি তৃতীয় প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা। জুনে টাকলোবান শহরের একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত ও প্রায় ২০ জন আহত হয়। গত মাসে জাম্বোয়াঙ্গা শহরেও এক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে গুলি চালিয়ে আরেক শিক্ষার্থীকে হত্যা করার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করে। পরে ওই হামলাকারীও আত্মহত্যা করে।

ফিলিপাইনে অস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠোর নিয়ম রয়েছে। অস্ত্রের মালিকদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ও মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে দেশটিতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এখনও রয়েছে।

সাউথ কোতাবাতোর গভর্নর রেইনালদো তামায়ো অভিভাবকদের সন্তানদের নাগালের বাইরে অস্ত্র রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অল্পসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীর ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এজন্য অভিভাবকসহ সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card