নিউইয়র্ক ০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে ২৮ আঙুল নিয়ে কন্যাশিশুর জন্ম

  • আপডেটের সময় : ০২:৫৩:৪৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে হাত ও পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিরল এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে ‘পলিড্যাক্টিলি’ বলা হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতকটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। তবে অতিরিক্ত আঙুলের পাশাপাশি শিশুটির ঠোঁট কাটা থাকায় তার ভবিষ্যৎ ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনমজুর বাবা-মা।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মালিপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আসাদুল ইসলাম আরিফ ও লিজা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এই শিশুটির জন্ম হয়। ফুলবাড়ী সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই নবজাতকের প্রতিটি হাত ও পায়ে সাতটি করে মোট ২৮টি আঙুল ছিল এবং প্রতিটি আঙুলেই নখ ছিল। তবে জন্মের দুইদিন পর বাম হাতের একটি বাড়তি আঙুল নিজে থেকেই ঝরে পড়ে। অতিরিক্ত আঙুল ছাড়াও শিশুটির ঠোঁটে জন্মগত ত্রুটি রয়েছে।

প্রথম সন্তানের এমন শারীরিক অবস্থা ও নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। ভ্যান চালিয়ে পাওয়া সীমিত আয়ে কোনোমতে সংসার চালানো এই বাবা জানান, মেয়ের ঠোঁটের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বড় অঙ্কের খরচ বহনের সামর্থ্য তার নেই। তবে মেয়ের সুস্থতার জন্য তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। শিশুটির দাদা আমজাদ হোসেন ও দাদি আয়েশা আক্তারও নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

লিজা আক্তারের অস্ত্রোপচার সম্পন্নকারী চিকিৎসক ডা. এম এ এন নূরুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, শিশুটির হাত ও পায়ের অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে আপাতত তেমন কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তবে ঠোঁট ও তালুর জন্মগত ত্রুটি দূর করতে পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে।

এদিকে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস কে সাদেক আলী এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘পলিড্যাক্টিলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এটি কোনো রোগ নয়, বরং একটি জন্মগত শারীরিক গঠনগত বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে শিশুটির শরীরের ভেতরে অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ফুলবাড়ীতে ২৮ আঙুল নিয়ে কন্যাশিশুর জন্ম

আপডেটের সময় : ০২:৫৩:৪৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে হাত ও পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিরল এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে ‘পলিড্যাক্টিলি’ বলা হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। নবজাতকটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। তবে অতিরিক্ত আঙুলের পাশাপাশি শিশুটির ঠোঁট কাটা থাকায় তার ভবিষ্যৎ ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনমজুর বাবা-মা।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মালিপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আসাদুল ইসলাম আরিফ ও লিজা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এই শিশুটির জন্ম হয়। ফুলবাড়ী সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই নবজাতকের প্রতিটি হাত ও পায়ে সাতটি করে মোট ২৮টি আঙুল ছিল এবং প্রতিটি আঙুলেই নখ ছিল। তবে জন্মের দুইদিন পর বাম হাতের একটি বাড়তি আঙুল নিজে থেকেই ঝরে পড়ে। অতিরিক্ত আঙুল ছাড়াও শিশুটির ঠোঁটে জন্মগত ত্রুটি রয়েছে।

প্রথম সন্তানের এমন শারীরিক অবস্থা ও নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। ভ্যান চালিয়ে পাওয়া সীমিত আয়ে কোনোমতে সংসার চালানো এই বাবা জানান, মেয়ের ঠোঁটের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বড় অঙ্কের খরচ বহনের সামর্থ্য তার নেই। তবে মেয়ের সুস্থতার জন্য তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। শিশুটির দাদা আমজাদ হোসেন ও দাদি আয়েশা আক্তারও নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

লিজা আক্তারের অস্ত্রোপচার সম্পন্নকারী চিকিৎসক ডা. এম এ এন নূরুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, শিশুটির হাত ও পায়ের অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে আপাতত তেমন কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তবে ঠোঁট ও তালুর জন্মগত ত্রুটি দূর করতে পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে।

এদিকে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস কে সাদেক আলী এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘পলিড্যাক্টিলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এটি কোনো রোগ নয়, বরং একটি জন্মগত শারীরিক গঠনগত বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে শিশুটির শরীরের ভেতরে অন্য কোনো জটিলতা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

Share this news as a Photo Card